গণনার আগে তুঙ্গে উত্তেজনা! স্ট্রংরুমে ‘পরিকল্পিত’ লোডশেডিং ও সিসিটিভি বিভ্রাটের অভিযোগ, কর্মীদের রাত জাগার নির্দেশ মমতার

গণনার আগে তুঙ্গে উত্তেজনা! স্ট্রংরুমে ‘পরিকল্পিত’ লোডশেডিং ও সিসিটিভি বিভ্রাটের অভিযোগ, কর্মীদের রাত জাগার নির্দেশ মমতার

আজ ৪ মে, সকাল থেকেই শুরু হতে চলেছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনা। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে সিসিটিভি বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নেত্রীর সতর্কবার্তা

রবিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লেখেন, “সতর্ক থাকুন। পাহারা দিন। রাত জাগুন। অভিযোগ করুন।” নেত্রীর অভিযোগ, হুগলির শ্রীরামপুর, নদীয়ার কৃষ্ণনগর, বর্ধমানের আউশগ্রাম এবং কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর ফলে সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেই অন্ধকারের সুযোগে স্ট্রংরুমে গাড়ি যাতায়াত করছে বলে তাঁর দাবি।

কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক ভিডিও

নেত্রীর আশঙ্কার সুর শোনা গিয়েছে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের গলাতেও। রবিবার রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সিসিটিভি মনিটরে ‘নো ভিডিও’ লেখা একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “সিসিটিভির স্ক্রিন কালো কেন? ভেতরে কী হচ্ছে? স্ক্রিনে কিছু নেই কেন?” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই পরিস্থিতির জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই সমস্তটাই বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে করা হচ্ছে।” কর্মীদের প্রতি তাঁর আহ্বান, কোথাও কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করতে হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করতে হবে। তিনি নিজেও রাত জেগে সমস্ত বিষয়ের ওপর নজর রাখছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

ব্যক্তিগত নজরদারি নেত্রীর

গণনা শুরুর আগে থেকেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রবল উদ্বেগে তৃণমূল শিবির। গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির মধ্যেই ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমে পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজার মতো হেভিওয়েট নেতারাও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে ধরনায় বসেছিলেন।

আজকের গণনায় যাতে জনমতের কোনও প্রতিফলন বিকৃত না হয়, তার জন্য কর্মীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এখন দেখার, এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের ছায়া গণনা প্রক্রিয়ায় কতটা পড়ে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *