স্ট্রং রুমে কারচুপির আশঙ্কা, গণনার সকালে কর্মীদের সতর্কবার্তা মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী সকালে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনা শুরু হওয়ার ঠিক আগে একাধিক জেলার স্ট্রং রুম চত্বরে রহস্যজনক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সন্দেহজনক গতিবিধির কথা উল্লেখ করে দলীয় কর্মীদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে জনগণের রায়ের অমর্যাদা করার চেষ্টা হতে পারে।
সন্দেহজনক গতিবিধি ও লোডশেডিংয়ের অভিযোগ
সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, হুগলি, নদিয়া, বর্ধমান এবং কলকাতার বেশ কিছু গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রং রুম এলাকায় গত রাতে পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে অনেক জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে এবং স্ট্রং রুমের আশেপাশে রহস্যজনক যানবাহনের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। মমতা সরাসরি এই ঘটনার পেছনে বিজেপির মদত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে একে “ভোট চুরির চক্রান্ত” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
‘চোখে চোখে রাখুন’: কর্মীদের কড়া নির্দেশ
গণনার চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত কর্মীদের মাঠ না ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে মমতা বলেন, “নজর রাখুন, সতর্ক থাকুন এবং কোনো অসঙ্গতি দেখলে অবিলম্বে অভিযোগ দায়ের করুন।” তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে কোনো প্রকার কারচুপি বা সন্দেহজনক কিছু নজরে এলেই যেন তা নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। গণনাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত কর্মীদের প্রতি তাঁর আহ্বান, “আমি নিজে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি, আপনারাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক থাকুন।”
উত্তেজনাপূর্ণ গণনাকেন্দ্রের আবহাওয়া
একদিকে যখন সকাল ৮টা থেকে কড়া নিরাপত্তায় পোস্টাল ব্যালট এবং পরবর্তী সময়ে ইভিএম গণনা শুরু হয়েছে, তখন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘সতর্কবার্তা’ কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদিও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ গণনার বিষয়ে বারবার আশ্বাস দিয়েছে, তবে শাসক দলের এই প্রকাশ্য আশঙ্কা রাজনৈতিক লড়াইকে ইভিএমের গণ্ডি ছাড়িয়ে অভিযোগের লড়াইয়ে রূপান্তর করেছে। দুপুরের দিকে ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার আগে পর্যন্ত এই স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
