গণনার ঠিক আগে শাখাওয়াতে চরম উত্তেজনা, বিজেপির স্টিকার লাগানো গাড়ি ঢোকা ঘিরে উত্তাল তৃণমূল!

গণনার ঠিক আগে শাখাওয়াতে চরম উত্তেজনা, বিজেপির স্টিকার লাগানো গাড়ি ঢোকা ঘিরে উত্তাল তৃণমূল!

চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ভাগ্যপরীক্ষা, আর তার ঠিক আগের সকালেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বর। রবিবার সকালে গণনাকেন্দ্রের দোরগোড়ায় বিজেপির স্টিকার লাগানো একটি ‘এক্স-আর্মি’ গাড়ি ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ, যখন সাধারণ স্কুটি বা বাইক চালকদের পরিচয়পত্র এবং নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, তখন একটি বড় স্করপিও গাড়ি কোনো তল্লাশি ছাড়াই কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি পেল? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের মেজাজ ছিল তুঙ্গে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ছিদ্র ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা

তৃণমূলের আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গণনার আগে ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে যেখানে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে এমন একটি গাড়ির অবাধ প্রবেশ অত্যন্ত সন্দেহজনক। গাড়ির সামনে স্পষ্টাক্ষরে বিজেপির স্টিকার লাগানো ছিল এবং সেটি ‘প্রাক্তন সেনাকর্মীর’ গাড়ি বলে দাবি করা হলেও তার ভেতরে কারা ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগ উঠতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে গাড়িটিকে সরিয়ে দেয়, কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি, ততক্ষণে গাড়িটি চত্বর ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘দালালি’ করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল কর্মীরা। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, জনৈক সেনা আধিকারিক ওই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাঁকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবাসিক হলেও কেন নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক দলের স্টিকার লাগানো গাড়ি ভেতরে ঢুকল, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও ঘনীভূত হওয়া আশঙ্কার মেঘ

শাখাওয়াত স্কুলের এই উত্তেজনা নতুন নয়। গত বৃহস্পতিবার মাঝরাতেও এখানে হাই-ভোল্টেজ নাটক প্রত্যক্ষ করেছিল রাজ্যবাসী। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাত ৮টা থেকে চার ঘণ্টা ধরে স্কুলের সামনে অবস্থান করেছিলেন। সেই সময় তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম কারচুপির চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই সফরের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন কমিশনে। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা ছিল, জনগণের রায়ে কারচুপি হলে তিনি জীবন দিয়ে লড়াই করবেন। রোববারের এই নতুন বিতর্ক সেই পুরনো ক্ষতকেই যেন আরও উসকে দিল।

গণনার চূড়ান্ত মুহূর্তের আগে এই ধরনের ঘটনা গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। একদিকে শাসকদলের ‘ভোট লুঠের রোখার’ সতর্কতা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ‘কঠোর প্রটোকল’—সব মিলিয়ে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার রেশ গণনার দিন বড়সড় সংঘাতের রূপ নিতে পারে, যা সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *