গণনার আগে ক্যানিংয়ে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব, বিজেপি কর্মীদের ঘরে ঢুকে মারধর আর চরম হুমকির অভিযোগ!

গণনার আগে ক্যানিংয়ে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব, বিজেপি কর্মীদের ঘরে ঢুকে মারধর আর চরম হুমকির অভিযোগ!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে জেলাগুলোর রাজনৈতিক আবহাওয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে নজিরবিহীন হামলা ও দেদার ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে ছড়িয়েছে চরম উত্তেজনা। ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার ইটখোলা অঞ্চলের মধুখালী এলাকায় অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, লাঠি ও রডের আঘাতের পাশাপাশি শূন্যে গুলি চালিয়ে এলাকায় গভীর রাতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়লেও সাধারণ মানুষের মনে সঞ্চার হয়েছে গভীর আতঙ্ক।

ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের সংকট

ভোট পরবর্তী হিংসার এই নতুন অধ্যায়টি মূলত শুরু হয় শনিবার গভীর রাতে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ সর্দার ও তাঁর অনুগামীরা অতর্কিতে বিজেপি কর্মীদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি বন্দুকের বাঁট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় মহিলাসহ একাধিক কর্মীকে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দীপিকা নস্কর ও কবির কৃষ্ণ হালদারের মতো সক্রিয় বিজেপি কর্মীরা। আক্রান্তদের অভিযোগ, হামলার সময় ‘৪ তারিখের পর দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা প্রকারান্তরে গণনা পরবর্তী হিংসারই আগাম সঙ্কেত। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে মূল উদ্দেশ্য হলো গণনাকেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্টদের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া এবং এলাকায় নিজেদের একাধিপত্য বজায় রাখা।

প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব

ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী। পুলিশি তদন্ত শুরু হলেও গুলি চালানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী শিবিরে ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির অন্তর্কন্দল বা সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেছে। তবে এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যানিংয়ের এই পরিস্থিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ভোট গণনার সময় বড়সড় গোলমালের আশঙ্কা তৈরি করছে। যদি এই ধরনের হামলা বন্ধ করা না যায়, তবে তা কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই কলঙ্কিত করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদীভাবে গ্রামীণ বাংলার সামাজিক কাঠামোয় এক গভীর বিভেদ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেবে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বুথফেরত সমীকরণের লড়াই কি শেষ পর্যন্ত পেশিবলের লড়াইয়ে পর্যবসিত হবে?

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *