‘গণ্ডারের গায়ে সুড়সুড়ি দিলে ৩ দিন পর হাসে’, ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে কমিশনকে বেনজির আক্রমণ কুণালের!

কলকাতা: ফলতায় পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘিরে এবার নির্বাচন কমিশনকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিসিটিভি এবং কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ভোট হওয়ার পরেও কেন ফের নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কমিশনের কাজের গতিপ্রকৃতি বোঝাতে গিয়ে কুণাল টেনে এনেছেন ‘গণ্ডারের’ উপমা।
“বজ্র-আঁটুনি কি ফস্কা গেরো?”
ফলতার গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন:
“এত নিরাপত্তা, এত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে লাভ কী হলো যদি ফের ভোটই করতে হয়? আপনাদের বজ্র-আঁটুনি কি তাহলে ফস্কা গেরো? গোটা ফলতাজুড়ে রিগিং হলো আর আপনারা ধরতে পারলেন না?”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ভোটের এত দিন পর কেন কমিশনের ঘুম ভাঙল? কমিশনের মন্থর গতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গণ্ডারের গায়ে সুড়সুড়ি দিলে যেমন তিনদিন পর হাসে, কমিশনের হালও ঠিক তেমন। রিগিং হওয়ার দিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?”
নিশানায় ‘সুপার সিঙ্ঘম’ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ
কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, এই সবটাই বিরোধী শিবিরের সাজানো নাটক। কুণালের কথায়:
- নির্বাচন কমিশনের বড় বড় সংলাপ এবং আধিকারিকদের ‘সিঙ্ঘম’ অবতার এখন কোথায়?
- এত সেন্ট্রাল ফোর্স থাকা সত্ত্বেও যদি রিগিং হয়ে থাকে, তবে তার দায় কার?
- কুণালের দাবি, যখন পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা হচ্ছে, ততক্ষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ২৩০টির বেশি আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে। তাই এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ফলতার ভোট সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলতার বহু কেন্দ্রে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ এবং গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। সেই কারণেই গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিলের মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ভোটের তারিখ: ২১ মে।
- ফলাফল ঘোষণা: ২৪ মে।
- ৪ মে-র গণনা: ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের গণনা হলেও, ফলতার ফলাফল ছাড়াই প্রাথমিক ট্রেন্ড জানা যাবে। কমিশনের মতে, একটি কেন্দ্রের ফলাফল বাকি রাজ্যের ফলাফলে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।
তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন, যা নিয়ে আপাতত তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
