গদি হারিয়েও লড়াকু মমতা, এবার কি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাল ধরবেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

গদি হারিয়েও লড়াকু মমতা, এবার কি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাল ধরবেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

সম্প্রতি ভারতের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জাতীয় রাজনীতিতে সমীকরণের দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তামিলনাড়ুর নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। একদিকে অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন দলের অপ্রত্যাশিত উত্থানে কংগ্রেসের অবস্থান পরিবর্তন ডিএমকে-কে ক্ষুব্ধ করেছে, অন্যদিকে বাংলায় বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে জোটের সুর।

তামিলনাড়ুতে ভাঙনের সুর

তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের মধ্যে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ ১০৮টি আসন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। যদিও তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তবে সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন তাদের হাতে। নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ও ক্ষমতাসীন ডিএমকে একসাথেই লড়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৫টি আসন পাওয়া কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে বিজয়ের দলকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। দলটির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘পিছন থেকে ছুরি মারার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাল্টা জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মাণিকম ঠাকুর জানিয়েছেন, জনতা ডিএমকে-র শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে এবং পরাজয় স্বীকার করে নেওয়াই এখন তাদের উচিত কাজ।

বাংলার হারে মমতার জোট-বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানে লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। নিজে পরাজিত হওয়ার পর এবং রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মমতা এখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করার ডাক দিচ্ছেন। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, বাংলা ও আসামে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোট ‘চুরি’ করেছে বিজেপি। মমতার দাবি, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীসহ জোটের অন্য শরিকরা তাঁর পাশে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীত্ব হারানোর পর তিনি জানিয়েছেন, এখন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটকে আরও মজবুত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ ও প্রভাব

জোটের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের ডিএমকে সঙ্গ ত্যাগ করা আদতে বিজয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখার কৌশল। এর ফলে দক্ষিণ ভারতে ইন্ডিয়া জোটের ঐক্য গুরুতর সংকটে পড়েছে।

অন্যদিকে, বাংলায় তৃণমূলের একলা চলার নীতি ও বাম-কংগ্রেসের সাথে আসন সমঝোতা না হওয়া বিজেপির জয়কে প্রশস্ত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সেই ধাক্কা সামলাতেই মমতা এখন জাতীয় স্তরের ঐক্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রভাবে আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের সংহতি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে, যা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। বিরোধী দলগুলোর এই পারস্পরিক টানাপোড়েন আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *