গর্ভবতী নার্সিং ছাত্রীকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ! অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পিজি হস্টেলেই মর্মান্তিক মৃত্যু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বারাণসী: উত্তরপ্রদেশের বারণসী থেকে এক শিউরে ওঠা ঘটনা সামনে এসেছে। হস্টেলের সিঁড়িতে এক ২০ বছর বয়সী নার্সিং ছাত্রীর রক্তাক্ত ও অচৈতন্য দেহ উদ্ধার ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়ায় লোকলজ্জার ভয়ে প্রেমিক তাঁকে জোর করে অত্যন্ত শক্তিশালী গর্ভপাতের ওষুধ (Abortion Pills) খাইয়ে দেয়। আর তার জেরেই যৌনাঙ্গ থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই ছাত্রী। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক সমীরকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দুটো লাঞ্চ বক্স নিয়ে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন তরুণী:
মৃত তরুণী একজন পুলিশ কনস্টেবলের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে নার্সিং পড়তেন। ওই একই কলেজের ছাত্র সমীরের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সমীর একটি পেয়িং গেস্ট (PG) হস্টে থাকত। কলেজ গরমের ছুটি পড়ে যাওয়ায় সমীর নিজের বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রেমিকের বাড়ি যাওয়ার আগে শেষবার দেখা করতে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বাড়ি থেকে দুটো লাঞ্চ বক্স গুছিয়ে সমীরের হস্টেলের ঘরে যান ওই তরুণী।
ঘরে ছড়ানো ওষুধ, সিঁড়িতে রক্তের দাগ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা প্রেমিকের ঘরেই ছিলেন ওই ছাত্রী। সেই সময়ই তরুণীর গর্ভবতী হওয়ার কথা জানতে পারে সমীর। জানাজানি হলে সম্মান নষ্ট হবে, এই ভয়ে সে তরুণীকে জোর করে তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তরুণীর শরীরে মারাত্মক রিঅ্যাকশন শুরু হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করতেই পিজি হস্টেলের সিঁড়িতে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। হস্টেলের অন্যান্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের জালে প্রেমিক:
মৃত তরুণী স্বয়ং এক পুলিশ আধিকারিকের মেয়ে হওয়ায় এই ঘটনায় গোটা পুলিশ মহলে তোলপাড় পড়ে গেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত সমীরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সারনাথের এসিপি বিদূষ সাক্সেনা জানিয়েছেন, “নার্সিং ছাত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় হস্টেল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই এই মৃত্যু বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ প্যানেল দিয়ে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।”
