গাজন মেলায় হারানো নাতনিকে ফেরানোর নামে সন্ন্যাসীর শ্লীলতাহানি
শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী গাজন মেলায় এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে। ভিড়ের সুযোগে দাদুর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নাতনিকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে এই ঘৃণ্য অপরাধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ইতিমধ্য়েই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে।
ভিড়ের সুযোগে অপরাধের ছক
রবিবার বিকেলে শান্তিপুরের গাজন মেলা চলাকালীন ১১ বছর বয়সী ওই নাবালিকা তার দাদুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল। মেলার অত্যধিক ভিড়ের মধ্যে আচমকাই দাদুর হাতছাড়া হয়ে যায় শিশুটি। আতঙ্কিত নাবালিকা যখন দাদুকে খুঁজছিল, তখন সন্ন্যাসীদের জটলা থেকে একজন এগিয়ে আসে। অভিযুক্ত সন্ন্যাসী পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাকে বিশ্বাস করে তার সঙ্গে যেতে রাজি হয় নাবালিকা। অভিযোগ, দাদুর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অছিলায় তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।
যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা
ঘটনার সময় ওই পথ দিয়ে স্থানীয় এক পরিচিত ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে দেখে নাবালিকাটি সমস্ত কথা জানায়। এরপর ওই ব্যক্তিই তাকে উদ্ধার করে দাদুর কাছে পৌঁছে দেন। প্রাথমিকভাবে দাদুর সঙ্গে অভিযুক্ত সন্ন্যাসীর বাকবিতণ্ডা হলেও, বাড়িতে ফিরে ঠাকুমাকে সব কথা খুলে বলে নাবালিকা। নাতনির ওপর হওয়া নিগ্রহের কথা শুনে রাতেই পরিবারের সদস্যরা শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সন্ন্যাসী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। পুলিশ তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করেছে। তবে অভিযুক্তের বাবার দাবি, পুরনো শত্রুতার জেরে তার ছেলেকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
মেলার মতো জনবহুল স্থানে যেখানে মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে হওয়া উচিত, সেখানে ধর্মের পোশাকে এমন অপরাধ সামাজিক অবক্ষয়কেই তুলে ধরে। উৎসবের ভিড়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে এই ধরণের অপরাধ ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ঘটনা: গাজন মেলায় নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি।
- স্থান: শান্তিপুর, নদিয়া।
- ভুক্তভোগী: ১১ বছরের নাবালিকা।
- অভিযোগ: দাদুর কাছে ফেরানোর নাম করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নিগ্রহ।
- আইনি পদক্ষেপ: পকসো আইনে মামলা রুজু, অভিযুক্ত পলাতক।
- অভিযুক্তের দাবি: পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার ও ষড়যন্ত্রের দাবি।
