‘কর্পোরেট জেহাদ’ বিতর্ক, টিসিএস আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগ

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস-এর কর্মীদের ওপর যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী বেশ কয়েকজন তরুণী কর্মী সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও টিম লিডারদের বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহ অভিযোগ

অভিযোগকারিনীদের দাবি অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা ভালো বেতন এবং পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে নারী কর্মীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করত। শ্লীলতাহানি ছাড়াও একজন কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

কর্পোরেট জেহাদ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপি এবং স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজনের দাবি, অভিযুক্তরা মুসলিম কর্মী ও কর্মকর্তা হিসেবে নারী কর্মীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল। তাঁদের নামাজ পড়তে এবং রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী কর্মস্থলে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও গ্রেপ্তার

নাসিক পুলিশ এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে একজন এসিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:

  • আসিফ আনসারি
  • শফি শেখ
  • শাহরুখ কুরেশি
  • রাজা মেমন
  • তৌসিফ আত্তার
  • অশ্বিন চাইনানি

সংস্থার অবস্থান ও এইচআর বিভাগের ভূমিকা

ভারত বিখ্যাত এই তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো-টলারেন্স নীতি’ অনুসরণ করে। অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে সংস্থার মানবসম্পদ বা এইচআর বিভাগের ভূমিকা নিয়ে। নির্যাতিতাদের দাবি, তাঁরা আগেই এইচআর বিভাগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময় তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বা উপেক্ষা করা হয়েছে।

এক ঝলকে

  • স্থান: নাসিক, মহারাষ্ট্র।
  • অভিযোগ: যৌন হেনস্তা, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের চেষ্টা।
  • অভিযুক্ত: টিসিএস-এর ইঞ্জিনিয়ারসহ ৬ জন আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • পুলিশের পদক্ষেপ: ১২ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন।
  • রাজনৈতিক অভিযোগ: বিজেপি এই ঘটনাকে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ বলে উল্লেখ করেছে।
  • সংস্থার পদক্ষেপ: অভিযুক্তদের বরখাস্ত ও ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তের আশ্বাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *