ভোটারদের মদ খাইয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, সরব তৃণমূল
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত কাঁথি আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে। দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মহিষাগোট গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৬ নম্বর বুথে ভোটারদের মদ বিলি করে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনে ডেরেক ও’ব্রায়েনের নালিশ
ভোটারদের প্রভাবিত করার এই অভিযোগ তুলে সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকজন বিজেপি নেতার নাম উল্লেখ করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি প্রার্থী অরূপ কুমার দাস, মহিলা মোর্চার নেত্রী মিনতি গিরি এবং বিজেপি কর্মী চন্দ্রশেখর গিরি এই ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাঁরা প্রকাশ্যে ভোটারদের মদ বিতরণ করছেন।
আইনি ধারা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক:
- জনপ্রতিনিধিত্ব আইন: নির্দিষ্ট কোনো দলকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রলোভন দেখানো জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(১) ধারা অনুযায়ী একটি ‘দুর্নীতিমূলক’ কাজ।
- বিএনএস বিধি: এই অপরাধ বিএনএসের ১৭১ (ঘুষ) এবং ১৭৪ (ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ বা সামগ্রী প্রদান) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
তৃণমূলের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে বিজেপি।
তৃণমূলের কঠোর পদক্ষেপের দাবি
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে:
- অভিযুক্ত বিজেপি প্রার্থী ও নেতাদের অবিলম্বে শোকজ করতে হবে।
- মদ বিতরণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং মজুত করা সমস্ত মদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
- এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য ফ্লাইং স্কোয়াড ও স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম মোতায়েন করতে হবে।
- অভিযুক্তরা যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি
বিজেপি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল কংগ্রেস ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এলাকায় পায়ের তলার মাটি হারিয়েই শাসকদল এখন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে।
বিজেপির এই পাল্টা যুক্তি থাকলেও, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের অভিযোগ কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এক ঝলকে
- স্থান: দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্র, মহিষাগোট গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৬ নম্বর বুথ।
- অভিযোগ: ভোটারদের মদ বিলি করে প্রভাবিত করা।
- অভিযুক্ত: বিজেপি প্রার্থী অরূপ কুমার দাস ও স্থানীয় নেতৃত্ব।
- অভিযোগকারী: তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।
- দাবি: অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
- বিজেপির প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ অস্বীকার, পরাজয়ের ভয়ে তৃণমূল অপপ্রচার করছে বলে দাবি।
