গ্রাহকের আমানত উড়িয়ে অনলাইন জুয়ার নেশা, শ্রীঘরে ব্যাঙ্কের মহিলা ক্যাশিয়ার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অনলাইন জুয়ার ভয়ঙ্কর নেশা এবং লাগামহীন বিলাসবহুল জীবনযাত্রার তাড়নায় ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা তছরুপের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে মধ্যপ্রদেশে। গ্রাহকদের গচ্ছিত রাখা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছেন এক মহিলা ক্যাশিয়ার। মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলার এই ঘটনায় তদন্তে নেমে ওই নারীর আর্থিক কেলেঙ্কারির খতিয়ান দেখে খোদ দুঁদে police কর্তাদেরও চোখ চড়কগাছ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আত্মসাৎ করা অর্থের সিংহভাগই তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন একটি বিনোদন ও গেমিং অ্যাপের পেছনে।
ধৃত ওই নারী জেলা সমবায় ব্যাঙ্কের প্রধান শাখায় মুখ্য ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাঙ্কের প্রধান ক্যাশিয়ার পদের সুবাদে তাঁর কাছে গ্রাহকদের আমানতের নিয়ন্ত্রণ ছিল শিথিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে ব্যাঙ্কের প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। সম্প্রতি ব্যাঙ্কের বার্ষিক অডিট প্রক্রিয়া চলাকালীন বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসেবে বড়সড় গরমিল ধরা পড়ে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে জاليةতির বিষয়টি নিশ্চিত হতেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কালবিলম্ব না করে স্থানীয় কোতোয়ালি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে।
বিলাসবহুল জীবন ও লাখ লাখ টাকার লোকসান
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে একের পর এক বিস্ফোরক ও চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের টাকা চুরি করে ওই নারী অনলাইনের মাধ্যমে বিমানের টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিলাসবহুল ভ্রমণে মেতে থাকতেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় আসক্তি ছিল ‘স্টার মেকার’ নামের একটি অনলাইন গেমিং ও বিনোদন অ্যাপ। ওই অ্যাপের ভার্চুয়াল জুয়া ও বিভিন্ন খেলায় বাজি ধরে তিনি এক ধাক্কায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা লোকসান করেন। জুয়ায় হারা টাকা তুলতে তিনি বারবার ব্যাঙ্কের তহবিল থেকে অর্থ সরাতে থাকেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে এক গভীর অন্ধকূপে ঠেলে দেয়।
আর্থিক নিরাপত্তার সংকট ও আইনি ব্যবস্থা
এই কেলেঙ্কারির জেরে স্থানীয় সমবায় ব্যাঙ্কের আমানতকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় কীভাবে একজন কর্মীর একক নিয়ন্ত্রণে চলে গেল এবং ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা কেন আগে এটি সনাক্ত করতে পারল না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই চক্রে ব্যাঙ্কের অন্য কোনো কর্মকর্তা বা বাইরের কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে।
