ঘরভর্তি মাদক আর অর্ধনগ্ন যুগলের মরদেহ, গল্ফগ্রিনের জোড়া মৃত্যুতে বাড়ছে রহস্যের পারদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার গল্ফগ্রিন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে যুগলের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মাদক, মৃতদেহের অবস্থা এবং পাশের ঘর থেকে আরও এক নেশাগ্রস্ত যুগলের গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে এই জোড়া মৃত্যুকে ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত মাদক সেবনের (ওভারডোজ) জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ যখন ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে, তখন তরুণীর দেহটি সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল এবং যুবকের শরীরে ছিল কেবল অন্তর্বাস। মৃত যুবকের নাম মহম্মদ দিলশাদ, তিনি তিলজলার বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর প্রেমিকা মেহুলি সান্যালের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন দিলশাদ। তিনি সেখানে নিয়মিত না থাকলেও, যখনই আসতেন অধিকাংশ সময় মেহুলি তাঁর সাথেই থাকতেন।
নেশার ঘোর নাকি অন্য কিছু
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রচুর পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। একই ফ্ল্যাটের পাশের ঘর থেকে আরও এক যুগলকে সম্পূর্ণ অচেতন ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ যখন পৌঁছায়, ততক্ষণে মৃতদেহগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। অথচ পাশের ঘরে থাকা যুগল এতটাই মাদকাসক্ত ছিলেন যে, পাশেই যে এমন একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে এবং দেহ পচতে শুরু করেছে, সেই হুঁশটুকুই তাঁদের ছিল না। ফ্ল্যাটের মালিক জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাটে প্রায়ই রাতভর দেদার মাদকের পার্টি চলত এবং ধৃত যুগলের সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি জোরালো হলেও, পুলিশ এখনই অন্য কোনো অপরাধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ধৃত যুগলকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর মহানগরের আবাসনগুলোতে ভাড়াটেদের গতিবিধি এবং অনিয়ন্ত্রিত মাদক পার্টির বিষয়টি পুনরায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
