চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা জালিয়াতি! এবার আইনি গেরোয় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির অভিযোগে এবার আইনি জটিলতায় জড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক যুবতীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতারি এড়াতে ইতিমধ্যেই জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী, যার শুনানি আগামী ১৮ জুন ধার্য করা হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় চাকরিচ্যুতি ও অভিযোগের সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ জুন সবংয়ের বাসিন্দা বিকাশ কুমার তুঙ্গ এই আর্থিক প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে স্ত্রীর চাকরির জন্য মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় তিনি ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। টাকা দেওয়ার পর তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগ দিলেও, রাজ্যে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলের পর গত ৬ মে আচমকাই একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩১৮(৪) বা প্রতারণা এবং ৬১(২) বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ধারায় প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ আবু কালাম এবং ভোলানাথ দে-র বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মানস ভুঁইয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির আবহে ফের একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম জড়ানো শাসকদলের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত আগামী ১৮ জুন আদালতের রায়ের দিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল, যা এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে।
