চা বাগানে কোটি টাকার ব্যবসা থামিয়ে প্রশাসনের মেগা মাস্টারস্ট্রোক – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/01/60kg5W8xEB2Lsd1jcw1l.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরবঙ্গের শতাব্দী প্রাচীন চা শিল্পের মূল স্বকীয়তা বজায় রাখা এবং স্থানীয় পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানের ঐতিহ্যবাহী জমিতে বিকল্প বাণিজ্যিক কাজ এবং অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার যে প্রবণতা চলছিল, তাতে লাগাম টানতেই প্রশাসন এই কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং জেলা জুড়ে সম্প্রতি চা-পর্যটনের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে গড়ে উঠেছে একের পর এক হোম-স্টে ও ইকো-ট্যুরিজম রিসোর্ট। তবে যথেচ্ছ বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফলে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল ও চা বাগানের সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ছিল। মূল চা শিল্পের উৎপাদন অক্ষুণ্ণ রাখা, সবুজ ধ্বংস রোধ করা এবং চা বাগান শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখাই সরকারের এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য।
পূর্বে রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী একটি চা বাগানের মোট জমির সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যটন এবং আনুষঙ্গিক সহযোগী শিল্পের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশিকায় সার্বিক চা শিল্পের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে সেই বাণিজ্যিক ব্যবহারের সীমা ৩০ শতাংশ থেকে একধাক্কায় কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাগানের আয়তন যতই বড় হোক না কেন, পর্যটনের কাজে সর্বাধিক ১৫০ একর জমি ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই কেবল পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ, পরিবেশপ্রেমী এবং চা বাগান শ্রমিক সংগঠনগুলি ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। সরকারের এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে উত্তরবঙ্গের গৌরবময় চা শিল্প রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতও ভবিষ্যতে একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব নতুন দিক খুঁজে পাবে।
