ছাব্বিশের ভরাডুবির পর এবার আর জি কর ফাইল খোলার আতঙ্কে তৃণমূল ছাড়লেন শান্তনু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন ভাঙন। পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িকের মাঝেই এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোর কমিটিতে বড় ধাক্কা লাগল। দলের সমস্ত ভুলত্রুটিকে আড়াল করার অন্যতম প্রধান ঢাল, জাতীয় মুখপাত্র ডাঃ শান্তনু সেন বৃহস্পতিবার আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। তবে কেবল এই ইস্তফাই নয়, দলনেত্রীকে লেখা তাঁর ত্যাগপত্রের বিস্ফোরক ভাষা এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করেছে। এতকাল বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় নিয়ে সরব ছিল, শান্তনুবাবুর কলমে যেন এবার তাতেই সিলমোহর পড়ল।
বিস্ফোরক চিঠি ও নৈতিকতার প্রশ্ন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে শান্তনু সেন অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় মেনে নিয়েছেন, কেন বাংলার মানুষ এবার তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষ যখন আর জি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির জন্য দলনেত্রীদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই অবস্থায় তাঁর মন আর কোনওভাবেই মুখপাত্র হিসেবে এগুলোকে সমর্থন করার সম্মতি দিচ্ছে না। দলের একজন জাতীয় স্তরের মুখপাত্রের মুখ থেকে নিজের দলের অতীত কর্মকাণ্ডকে ‘অনৈতিক’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে তকমা দেওয়া কার্যত নজিরবিহীন, যা প্রমাণ করে যে তৃণমূলের অন্দরের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
আর জি কর ফাইল খোলার আতঙ্ক ও ক্ষমতার রদবদল
তৃণমূলের সঙ্গে শান্তনু সেনের সম্পর্ক গত কয়েক মাসে এক চরম রোলারকোস্টারের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যখন জুনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলনে নামেন, তখন আর জি কর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের চক্ষুশূল হয়েছিলেন শান্তনু। ফলস্বরূপ তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হলেও পরে ড্যামেজ কন্ট্রোলের তাগিদে সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করে তাঁকে আবার জাতীয় মুখপাত্রের পদে ফিরিয়ে এনেছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
তবে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হতেই রাজনৈতিক হাওয়া সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই আর জি কর কাণ্ডের সমস্ত ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাতেই তড়িঘড়ি নিজের অবস্থান বদলে সত্যপ্রকাশকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন শান্তনু সেন। ইতিমধ্যেই তিনি আর জি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ এবং তৃণমূলের চিকিৎসক-বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট চালানোর মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের তদন্তের আওতায় আসার এবং আইনি জটিলতায় পড়ার আতঙ্ক থেকেই মূলত এই দলত্যাগ এবং নতুন শাসক শিবিরের কাছে তথ্য দেওয়ার প্রচ্ছন্ন বার্তা।
