“জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট ছাড়া সব তথ্য ইডির হাতে তুলে দিলাম,” ম্যারাথন জেরা শেষে বিস্ফোরক দাবি মদন মিত্রের – এবেলা

“জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট ছাড়া সব তথ্য ইডির হাতে তুলে দিলাম,” ম্যারাথন জেরা শেষে বিস্ফোরক দাবি মদন মিত্রের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কঠোর নজরদারির মুখে পড়লেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কার্যালয়ে হাজিরা দেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

টানা প্রায় আট ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁকে একের পর এক নথিপত্র সামনে রেখে বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন। এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে ইডি দফতর থেকে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র জোরালো দাবি করেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কখনই কোনো ধরনের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পাশাপাশি, তিনি বা তাঁর পরিবার কখনই কোনো দুর্নীতির পক্ষ নেননি বা মদত জোগাননি বলেও জানান।

তদন্তকারী সংস্থার প্রতি সম্পূর্ণ সহযোগিতার মনোভাব ব্যক্ত করে মদন মিত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, গোয়েন্দারা তাঁর কাছে যে সমস্ত তথ্য এবং নথিপত্র চেয়েছিলেন, তার প্রায় সবটাই তিনি স্বচ্ছভাবে তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে থেকে তদন্ত করার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার রয়েছে এবং নাগরিক বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এই তদন্তকাজে সাহায্য করা সকলের নৈতিক কর্তব্য। তবে এই প্রসঙ্গে কিছুটা চেনা মেজাজেই তিনি মন্তব্য করেন যে, তাঁর কাছে কেবল জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কোনো নথি চাওয়া হয়নি, বাকি সব তথ্যই দেওয়া হয়েছে। যদিও আগামী দিনে তাঁকে বা তাঁর পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে ফের তলব করা হবে কি না, সে বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, রাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী পুরনিয়োগ দুর্নীতির এই মামলায় এর আগেও মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি। চলতি বছরের জুন মাসে তাঁর দক্ষিণেশ্বর এবং ভবানীপুরের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেছিলেন গোয়েন্দারা। সেই অভিযানের রেশ ধরেই পরবর্তীতে মদন মিত্রের দুই ছেলে শুভরূপ মিত্র ও স্বরূপ মিত্র এবং স্ত্রী অর্চনা মিত্রকে দফায় দফায় দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন ইডি আধিকারিকরা। পরিবারের সদস্যদের পর অবশেষে খোদ কামারহাটির বিধায়ককে ডেকে এই ম্যারাথন জেরা সম্পন্ন হলো। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার জene আসন্ন দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *