জরুরি বিভাগে মদ-বিরিয়ানির আসর, আর জি করে ফের প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে। এবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরেই এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর মদ ও বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বছর দুয়েক আগের অভয়া কাণ্ডের পর হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এই ঘটনা যেন তাকেই আবার নতুন করে উসকে দিল।
ভিডিও ঘিরে তোলপাড় ও রাজনৈতিক সংযোগ
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে চেয়ারে বসে গোলাপি শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি মদের গ্লাস ও বিরিয়ানি নিয়ে পার্টি করছেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম রঞ্জিত গোঁসাই এবং তিনি আর জি করের একজন গ্রুপ ডি কর্মী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত রঞ্জিত গোঁসাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর সহকর্মীদের দাবি, রঞ্জিত আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্ষমতার পালাবদলের পর নিজেকে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি সম্প্রতি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকেও তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
অভিযুক্তের সাফাই ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
বিতর্ক বাড়তেই অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থনে সরব হয়েছেন অভিযুক্ত কর্মী। রঞ্জিত গোঁসাইয়ের দাবি, এটি অনেক পুরনো ভিডিও এবং কেউ বা কারা পরিকল্পনা করে সম্প্রতি এটি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। দরিদ্র রোগীদের ভর্তি হতে সাহায্য করাই তাঁর মূল কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আর জি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ মানস মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে ঘটনাটি জানার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মীকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
নিরাপত্তার অভাব ও সম্ভাব্য প্রভাব
হাসপাতালের মতো একটি অতি সংবেদনশীল এবং জরুরি পরিষেবার জায়গায় কীভাবে এই ধরনের মদ্যপানের আসর বসতে পারে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে। অতীতেও এই হাসপাতালে নিরাপত্তা ও হাসপাতাল চত্বরে মদ্যপানের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এই নতুন ঘটনাটি প্রমাণ করছে যে পূর্ববর্তী আশ্বাসের পরেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে বড়সড় গলদ রয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে হাসপাতালের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবার কালিমালিপ্ত হলো, অন্যদিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাও নতুন করে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
