‘জিতছি আমরা, কাউন্টিং-হলেও খেলা হবে’! গণনার ৪৮ ঘণ্টা আগে এজেন্টদের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা মমতা-অভিষেকের

আগামীকাল ৪ মে মেগা ভোটগণনা। তার আগে শনিবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে কার্যত ‘যুদ্ধজয়ের’ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথফেরত সমীক্ষাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে নেত্রীর স্পষ্ট দাবি, “২০০ আসন পার করে আমরাই এগোচ্ছি।” তবে শেষ মুহূর্তের ষড়যন্ত্র রুখতে এজেন্টদের রাত ২টো পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
গণনাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি ও সতর্কতা
বৈঠকে এজেন্টদের উদ্দেশে একগুচ্ছ স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে:
- ভোর ৫টা থেকে ৫.৩০ মিনিটের মধ্যে কাউন্টিং এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে।
- বাইরের কারও দেওয়া জল বা খাবার গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- নিজের টেবিল ছেড়ে ওঠা যাবে না। একান্তই বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে দলের অন্য কাউকে পাহারায় রেখে কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্রুত ফিরে আসতে হবে।
- নির্বাচন কমিশন ধীরগতিতে গণনা চালাতে পারে, তাই ধৈর্য হারালে চলবে না। প্রয়োজনে রাত ২টো বাজলেও চূড়ান্ত শংসাপত্র না নিয়ে কেন্দ্র ছাড়া যাবে না।
ইভিএম কারচুপি রুখতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’
বিজেপি ইভিএম পাল্টে দিতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা ও অভিষেক প্রযুক্তিগত বিষয়ে এজেন্টদের সতর্ক করেছেন।
- অভিষেক জানান, কোনো ইভিএমের ব্যাটারি যদি ৭০ শতাংশের বেশি চার্জ দেখায়, তবে সন্দেহ করতে হবে যে মেশিনটি নতুন। সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি জানাতে হবে।
- মমতা সতর্ক করে বলেন, গণনাকেন্দ্রে ১০ সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলেও নজরদারি ছাড়লে চলবে না, কারণ ওইটুকু সময়ের মধ্যেও মেশিন পাল্টানোর ছক থাকতে পারে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা যাতে সঠিক তথ্য কম্পিউটারে নথিভুক্ত করেন, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে।
- মাত্র ৩০০ বা ৫০০ ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে জিততে দেখলে অবিলম্বে পুনর্গণনার (রিকাউন্টিং) দাবি তুলতে হবে।
বাইরে জমায়েত ও কন্ট্রোল রুম
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছাত্র-যুব, মহিলা ও শ্রমিক শাখা মিলিয়ে চার-পাঁচ হাজার কর্মীর জমায়েত থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এজেন্টদের বাধা দিলে বা কোনো রকম অত্যাচার করলে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থাকা কর্মীদের এবং দলকে জানাতে হবে। মহিলাদের রাস্তায় নামার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে গোটা রাজ্যের গণনা মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি রাজীব কুমারের মতো অভিজ্ঞদের জেলায় জেলায় পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্তদের পুরস্কার ও অপরাধীদের শাস্তি
বৈঠকের শেষে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দেন যে, কঠিন এই ভোটযুদ্ধে যে সমস্ত কর্মীরা মার খেয়েও ময়দান ছাড়েননি, সরকার গঠনের পর তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি, যাঁরা তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
