জিভের তলায় নুন না কি ঠান্ডা জল? মাইগ্রেনের কোন টোটকা সুপারহিট আর কোনটা ফ্লপ— চিকিৎসকদের র্যাঙ্কিং জানলে চমকে যাবেন!

মাইগ্রেনের অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ইন্টারনেটে প্রচলিত বিভিন্ন ঘরোয়া দাওয়াই বা ‘হ্যাকস’ এর ওপর ভরসা করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে, এসব প্রচলিত পদ্ধতির সবকটি কার্যকর নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া জিভের তলায় নুন রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিউরোলজিস্টদের মতে, মাইগ্রেনের ব্যথায় লবণের কোনো বৈজ্ঞানিক ভূমিকা নেই এবং চিকিৎসকদের রেটিংয়ে এটি ১০-এ শূন্য পেয়েছে।
কার্যকর ও অকার্যকর পদ্ধতির পার্থক্য
গবেষণায় দেখা গেছে, কপালে বরফ দেওয়া বা ‘কোল্ড থেরাপি’ মাইগ্রেনের ব্যথায় বেশ কার্যকর, যা চিকিৎসকদের কাছে ১০-এ ৮ রেটিং পেয়েছে। এটি সাময়িকভাবে রক্তনালী সংকুচিত করে আরাম দেয়। অন্যদিকে, গরম জলে পা ডুবিয়ে রাখা বা কানে বিশেষ ধরনের ছিদ্র (ডেইথ পিয়ার্সিং) করার মতো বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে রক্ত সরিয়ে নেওয়ার তত্ত্বটির কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞ সার্জন ডঃ জগদীশ চাটনালির মতে, মাইগ্রেন কোনো সাধারণ সমস্যা নয় বরং এটি স্নায়ুর একটি জটিল প্রক্রিয়া যা নিউরোট্রান্সমিটার ও মস্তিষ্কের সংবেদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত। ফাস্ট ফুড বা কোল্ড ড্রিঙ্কসে থাকা ক্যাফেইন ও কার্বোহাইড্রেট দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে তৈরি হওয়া ব্যথা কমাতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। তবে যে কোনো টোটকা ব্যবহারের চেয়ে ব্যথার ধরন, ঘুমের মান ও খাদ্যাভ্যাসের ক্লিনিক্যাল রেকর্ড রাখা জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী উপশমের জন্য ঘরোয়া পদ্ধতির বদলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এক ঝলকে
- জিভের নিচে লবণ রাখা বা কানে ফুটো করার মতো প্রচলিত টোটকাগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
- কপালে বরফ ব্যবহার বা কোল্ড থেরাপি সাময়িক আরাম দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
- আইব্রো ক্লিপের ব্যবহার বা নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ সামান্য উপশম দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়।
- মাইগ্রেন একটি গভীর স্নায়বিক সমস্যা হওয়ায় ঘরোয়া দাওয়াইয়ের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন জরুরি।
