জি৭ সম্মেলনে হট মাইক বিতর্ক, বন্ধ দরজার আড়ালে ফাঁস বিশ্বনেতাদের আসল রূপ! – এবেলা

জি৭ সম্মেলনে হট মাইক বিতর্ক, বন্ধ দরজার আড়ালে ফাঁস বিশ্বনেতাদের আসল রূপ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-তে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের জি৭ সম্মেলন ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক বিতর্ক। কঠোর নিরাপত্তা ও চরম গোপনীয়তার বলয় ভেঙে বিশ্বনেতাদের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের কথাবার্তা রেকর্ড হয়ে গেছে একটি চালু মাইক্রোফোনে, যা ‘হট মাইক’ নামে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্ব অর্থনীতির মতো গুরুতর বিষয় আলোচনার ফাঁকে নেতাদের ধূমপানের অভ্যাস, ফুটবলপ্রেম, উপহার আদান-প্রদান এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক আলোচনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।

ট্রাম্প-ম্যাক্রোঁ টানাপোড়েন ও গ্রিনল্যান্ডের রহস্য

এই ফাঁসের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি হলো ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার গোপন কথোপকথন। ম্যাক্রোঁকে অত্যন্ত নিচু স্বরে জেলেনস্কির কাছে স্বীকার করতে শোনা যায় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আগের সন্ধ্যার বৈঠকটি “খুবই কঠিন” ছিল। এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে শুল্ক, ইরান বিতর্ক এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলির ভেতরের টানাপোড়েন কতটা তীব্র। একই সঙ্গে ট্রাম্প ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সংলাপে হঠাৎ ট্রাম্পের মুখে “গ্রিনল্যান্ড” শব্দটি শোনা যায়। অতীতের গ্রিনল্যান্ড কেনার বিতর্ককে মনে করিয়ে দেওয়া এই রহস্যময় মন্তব্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ডেনমার্কের কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর পরপরই অবশ্য ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ইউএফসি খাঁচার লড়াইয়ের গল্পে মেতে উঠতে শোনা যায়।

ধূমপান বর্জন, ফুটবল এবং পর্দার পেছনের কূটনীতি

ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মাঝে নেতাদের কিছু হালকা মেজাজের আলোচনাও সামনে এসেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান যে তিনি মে মাস থেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, যা শুনে কানাডা ও ব্রিটেনের প্রতিনিধিরা তাঁকে অভিনন্দন জানান। আবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ফুটবলের প্রশংসা করতে শোনা যায়। সম্মেলনের শেষভাগে কূটনৈতিক উপহার দেওয়া-নেওয়াতেও ছিল কৌশলের খেলা। ম্যাক্রোঁ সবাইকে সাইকেল উপহার দিলেও, শরীরচর্চাবিমুখ ট্রাম্পকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ তাঁর নাম ও ‘৪৭’ নম্বর লেখা জার্মানি দলের ফুটবল জার্সি উপহার দেন। পরে মার্জ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিয়ে লেখেন, “শেষ পর্যন্ত, আমরা তো একই দলে।”

এই অসতর্ক রেকর্ডিংয়ের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির আড়ালেও নেতাদের আসল সমীকরণ কতটা জটিল। অসাবধানতাবশত মাইক্রোফোন চালু থাকায় এই গোপন আলোচনা জনসমক্ষে চলে এসেছে। এই কথোপকথন ফাঁসের ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণী আলোচনায় এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *