টলিউডে ভয়ের সংস্কৃতির অবসান, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ টেকনিশিয়ানদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্টুডিওপাড়ায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ কাটিয়ে অবশেষে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টলিপাড়ার কলাকুশলীরা। টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে টলিউডের একচ্ছত্র আধিপত্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ উঠে এসেছে। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথমবার মন খুলে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারকা, পরিচালক, প্রযোজক থেকে শুরু করে সাধারণ টেকনিশিয়ানরা। সকলেরই এক সুর, পূর্বতন সরকারের ছায়া কাটিয়ে এবার টলিপাড়াকে সম্পূর্ণ ব্যাভিচারমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশ দিতে হবে।
ত্রাসের রাজত্ব ও মারাত্মক নির্যাতনের খতিয়ান
বৈঠকে উপস্থিত কলাকুশলীদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ বিশেষ করে স্বরূপ বিশ্বাসের নাম, যাঁকে টলিপাড়ার ‘আতঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন ভুক্তভোগীরা। রূপটান শিল্পী সিমরান পাল অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশনের এক পদস্থ ব্যক্তির কাছে কাজ চেয়েও তিনি পাননি, উল্টে তাঁর কাজ কেড়ে নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে ফেডারেশনের সভাপতির কাছে চিঠি পাঠালে তাঁর কাছে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি ও অশালীন প্রস্তাব আসতে থাকে।
আরও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সংগ্রাম কর্মকার নামে এক টেকনিশিয়ান। দেশের বাইরে কাজ করে ফেরার পর থেকেই তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরাগভাজন হন। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে তাঁর বাড়িতে এক প্রভাবশালীর নির্দেশে হামলা চালায় ১৫-২০ জন দুষ্কৃতী। সংগ্রামকে বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকির পাশাপাশি এলোপাথাড়ি ইট ছুড়লে তাঁর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তীতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, তাঁকে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে মারধর এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে দাবি তাঁর।
পরিবর্তনের আশা ও নতুন সরকারের উদ্যোগ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম টেকনিশিয়ানরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পেলেন। অতীতে যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক পর্যন্ত তাঁদের পৌঁছাতে দেওয়া হতো না, সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত চার প্রতিনিধি—রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্টুডিওপাড়ার এই সমস্ত যন্ত্রণার কথা এবং সংগৃহীত তথ্য ও রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিকে ভয়মুক্ত ও স্বৈরাচারহীন করতে এই বৈঠক এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের শোষণ, হুমকি ও ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে টলিউডের সংস্কৃতি জগতে এক সুস্থ, স্বাভাবিক এবং পেশাদার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
