টলিপাড়ায় তুমুল উত্তেজনা ও ডিম-ইটবৃষ্টি, রদবদলের পরেই রণক্ষেত্র টালিগঞ্জ! – এবেলা

টলিপাড়ায় তুমুল উত্তেজনা ও ডিম-ইটবৃষ্টি, রদবদলের পরেই রণক্ষেত্র টালিগঞ্জ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার বড়সড় খোলনলচে বদল হতে চলেছে টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোয়। দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ভেঙে ২৬টি গিল্ড কমিয়ে মাত্র ৪টি বিভাগে আনার ঘোষণা করেছেন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথা ঘোষণার ঠিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র উত্তেজনা ছড়াল টালিগঞ্জে। কাজ পাওয়া ও পদ ধরে রাখাকে কেন্দ্র করে কলাকুশলীদের দুটি পক্ষের মধ্যে তুমুল বিবাদ, হাতাহাতি এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট ও ডিম ছোড়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রের রূপ নেয় টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও ও সংলগ্ন মাঠ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রিজেন্ট পার্ক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়।

রদবদলের সিদ্ধান্ত ও সংঘাতের সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। টলিপাড়ায় ‘ব্যান কালচার’ বা কর্মবিরতির সংস্কৃতি বন্ধ করতে তিনি ২৬টি গিল্ডের পরিবর্তে ৪টি বিভাগে এনে ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশান পিকচার্স অ্যান্ড কালচারাল কনফেডারেশন’ (EIMPCC) গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এবার থেকে স্ক্রিনিং বা সিলেকশনের (SIR) মাধ্যমে কেবল যোগ্য ও বৈধ টেকনিশিয়ানরাই কাজ পাবেন এবং পিছনের দরজা দিয়ে আসা অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, বিদায়ী সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের জমানার আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট পাঠানো এবং টলিপাড়ার প্রোডাকশন গিল্ডের সম্পাদক মহম্মদ হাসান ও সহ-সম্পাদক নিরুপম দে সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উত্তেজনা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার সকালে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে একটি বৈঠক ডাকা হলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এক পক্ষ দাবি করে, নিজেদের পদ ও প্রভাব ধরে রাখতে বিদায়ী নেতারা বহিরাগতদের এনে ঝামেলা পাকাচ্ছেন। পাল্টা জবাবে অন্য পক্ষ বিক্ষোভকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করার অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে এই বাদানুবাদ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ নেয়, যার জেরে স্টুডিওপাড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে টলিপাড়ার ভেতরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সাংগঠনিক এই অচলাবস্থার কারণে স্টুডিওপাড়ার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর টেকনিশিয়ানদের একাংশ বিদায়ী কর্তাদের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং টলিউডের এই বিশৃঙ্খলা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *