টাকার কাছে আবেগ মূল্যহীন, কেন বারবার আহমেদাবাদেই আইপিএল ফাইনাল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আইপিএল হোক বা বিশ্বকাপ, সব বড় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনাল মানেই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে ছুটতে হচ্ছে গুজরাটের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। ২০২৬ সালের আইপিএল ফাইনাল ম্যাচটি বেঙ্গালুরু থেকে আচমকা আহমেদাবাদে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটমহল এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। চেন্নাইয়ের চিপক, কলকাতার ইডেন গার্ডেনস কিংবা পাঞ্জাবের মোহালির মতো ঐতিহ্যের মাঠগুলোকে উপেক্ষা করে কেন বারবার একটি নির্দিষ্ট মাঠেই ফাইনাল আয়োজন করা হচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
আহমেদাবাদে ফাইনাল সরানোর নেপথ্য কারণ
এবারের ফাইনাল ম্যাচটি বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম থেকে সরানোর পেছনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলকে দায়ী করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় রাজনীতিবিদরা এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের জন্য প্রায় ১৫ হাজার ফ্রি টিকিটের দাবি করেছিলেন, যা বোর্ডের নিয়ম বহির্ভূত। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সংস্থাকে ১৫ শতাংশ টিকিট দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের হাত থেকে টিকিট কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিলিয়ে দেওয়ার এই অন্যায় দাবি মেনে নেয়নি বিসিসিআই। ফলে ম্যাচটি আহমেদাবাদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া ইডেন গার্ডেনসের ক্ষেত্রেও এর আগে ২০২৫ সালে বৃষ্টির আগাম অজুহাত দিয়ে ফাইনাল ম্যাচ আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যদিও পরে দেখা যায় ফাইনালের দিন কলকাতায় একফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য বনাম বাণিজ্যিক লাভ
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিসিআইয়ের কাছে জনআবেগ বা সেন্টিমেন্টের চেয়ে বাণিজ্যিক লাভ ও ব্যবসাই এখন মূল চালিকাশক্তি। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি। বিপুল দর্শকাসনের কারণে স্পনসর, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্টেকহোল্ডারদের হাজার হাজার ফ্রি টিকিট দেওয়ার পরেও সাধারণ টিকিট বিক্রি করে রেকর্ড পরিমাণ আয় করতে পারে বোর্ড। পাশাপাশি ব্রডকাস্টার ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেও এই ঝলমলে স্টেডিয়ামটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, যা কর্পোরেট দুনিয়া থেকে বিপুল রাজস্ব এনে দেয়। ২০২১ সালে এই স্টেডিয়ামটি নতুনভাবে উদ্বোধনের পর থেকে গত পাঁচ বছরে মোট চারবার (২০২২, ২০২৩, ২০২৫ এবং ২০২৬) এখানেই আইপিএল ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
ক্রিকেটের আঞ্চলিক পরিচয় সংকটে
স্রেফ ব্যবসার দোহাই দিয়ে প্রতি বছর ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে একটি নির্দিষ্ট শহরে বন্দি করে ফেলার কারণে আইপিএল তার আসল সৌন্দর্য এবং আঞ্চলিক বৈচিত্র্য হারাচ্ছে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও শহরের নিজস্ব ক্রিকেট সংস্কৃতি ও আবেগ রয়েছে, যা এই একচেটিয়া সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাধারণ দর্শকরা ক্রিকেট বোর্ডের এই নীতি নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করছেন, কারণ কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক অঙ্কের আড়ালে ক্রিকেটের চিরন্তন আবেগ ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।
