টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে ব্যাঙ্কে! তোলপাড়ের ২ মাস পর সাসপেন্ড ম্যানেজার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভুবনেশ্বর: মৃত বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ওড়িশার এক আদিবাসী ব্যক্তি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ‘প্রমাণ’ চাওয়ায় সোজা বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হয়েছিলেন তিনি! দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া সেই অমানবিক ঘটনার প্রায় দু’মাস পর কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। সাসপেন্ড করা হলো ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মালিপোসি শাখার ম্যানেজারকে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
- ওড়িশার কেওনঝড়ের দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা জিতু মুন্ডার বোনের কয়েক মাস আগে মৃত্যু হয়।
- বোনের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ১৯,৩০০ টাকা তুলতে ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কে যান তিনি।
- অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্মীরা তাঁকে জানান, বোন নিজে না এলে টাকা দেওয়া যাবে না। মৃত বোনের মৃত্যুর প্রমাণও চাওয়া হয়।
- এরপরই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার হেঁটে, কবর খুঁড়ে বোনের কঙ্কাল তুলে সরাসরি ব্যাঙ্কে হাজির হন জিতু মুন্ডা।
তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপ:
এই মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক গত ২ মে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান।
সম্প্রতি ১২ জুন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী একটি চিঠি দিয়ে নবীন পট্টনায়ককে জানান যে:
- গাফিলতির অভিযোগে ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে।
- সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জন্য দেশের ২৮টি আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে বিশেষ নির্দেশিকা দিয়েছে কেন্দ্র।
ব্যাঙ্কের সাফাই খারিজ:
ঘটনার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, তারা কঙ্কাল বা মৃতদেহ আনতে বলেনি, কেবল বৈধ নথিপত্র চেয়েছিল। জিতু মুন্ডা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলেও তারা সাফাই দেয়। তবে তদন্তে ব্যাঙ্কের চূড়ান্ত গাফিলতির প্রমাণ মেলায় শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড হতে হলো অভিযুক্ত ম্যানেজারকে।
