ট্রফি জিতেও মিলল না প্রাইজ মানি, বাংলা দাবায় বেনজির আর্থিক কারচুপির অভিযোগ – এবেলা

ট্রফি জিতেও মিলল না প্রাইজ মানি, বাংলা দাবায় বেনজির আর্থিক কারচুপির অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় দাবার জয়জয়কার এবং রাজ্যে চৌষট্টি খোপের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির আবহে এক চরম অস্বস্তিকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ট্রফি এবং খেতাব জয়ের পরও প্রায় ১০ মাস ধরে পুরস্কারের অর্থ না পাওয়ার এক বেনজির অভিযোগ উঠেছে বাংলা দাবা মহলে। অল ইন্ডিয়া চেস ফেডারেশন (এআইসিএফ) অনুমোদিত এবং আন্তর্জাতিক দাবা নিয়ামক সংস্থা ‘ফিডে’ রেটিংপ্রাপ্ত একটি স্বীকৃত প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েও আজ পর্যন্ত ঘোষিত ৭০ হাজার টাকার প্রাইজ মানি পাননি কলকাতার এক উদীয়মান দাবাড়ু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য দাবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়বদ্ধতা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার জাল

অভিযোগের সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কলকাতার আইসিসিআর-এ আয়োজিত একটি দাবা প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে। ‘চেকমেট চেস অ্যাকাউন্টিং’ আয়োজিত এবং ‘সারা বাংলা দাবা সংস্থা’ (এসবিডিএস) অনুমোদিত ওই প্রতিযোগিতায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে অংশ নিয়েছিলেন সম্বুদ্ধ রায়চৌধুরি নামের এক দাবাড়ু। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করার পর তাঁর হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হলেও, পুরস্কারের ৭০ হাজার টাকা আর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। অভিযোগের তির কৌশিক বৈদ্য নামের এক ব্যক্তির দিকে, যাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিযোগিতার যাবতীয় এন্ট্রি ফি জমা নেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তির ফোন নম্বর এবং হোয়াটসঅ্যাপ নিষ্ক্রিয় বলে দাবি করেছেন প্রতারিত দাবাড়ুর পরিবার। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এই বিপুল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তকে পরবর্তীকালে মাদুরাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়।

নিয়ামক সংস্থার ভূমিকা এবং উদীয়মান প্রতিভাদের ভবিষ্যৎ সংকট

এই ঘটনার অন্যতম চাঞ্চল্যকর দিক হলো, ছোট অঙ্কের পুরস্কার প্রাপকদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হলেও, বড় অঙ্কের প্রাইজ মানি কার্যত গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য দাবা সংস্থার শীর্ষ কর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ। একটি আন্তর্জাতিক রেটিংপ্রাপ্ত টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়ে কেন একজন প্রতিযোগী কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য হবেন, তা নিয়েও রহস্য দানা বেঁধেছে।

দাবা খেলায় এমনিতে কোচিং, যাতায়াত এবং এন্ট্রি ফি বাবদ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে বিপুল খরচ বহন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের পুরস্কারের অর্থ নিয়ে এই ধরনের প্রতারণা এবং নৈতিক অস্বচ্ছতা চলতে থাকলে উঠতি খেলোয়াড়দের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে শেক্সপিয়র সরণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে মাসের পর মাস কেটে গেলেও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্রীড়া মহলে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। এই ঘটনা নিছক একটি টুর্নামেন্টের গাফিলতি নয়, বরং গোটা ক্রীড়া প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নজরদারির অভাব এবং চরম অব্যবস্থাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *