ট্রাম্পের নিশানায় মেলোনি, অকুতোভয় ইতালির প্রধানমন্ত্রী!

ট্রাম্পের নিশানায় মেলোনি, অকুতোভয় ইতালির প্রধানমন্ত্রী!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে এবার সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষত, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক দূরত্ব এবং কঠোর সমালোচনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক অভিযানে ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকাকেই মূল সমস্যা হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।

মেলোনির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মেলোনিকে নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ইটালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, মেলোনির রাজনৈতিক সাহসিকতাকে তিনি যেভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন, বর্তমান বাস্তবতায় তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাম্পের এই আক্রমণ মূলত জি-৭ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার হতাশা থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

ট্রাম্পের সমালোচনার প্রধান একটি জায়গা হলো হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক কৌশলগত নীতি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। ট্রাম্পের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা এককভাবে আমেরিকার ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য। তিনি জানিয়েছেন:

  • ইটালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও জ্বালানি সুরক্ষার প্রশ্নে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
  • হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইটালির কৌশলগত বা সামরিক অসহযোগিতা অগ্রহণযোগ্য।
  • ইরানের পরমাণু হুমকির মুখে ইটালির এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বিশ্বরাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ইটালির সাধারণ জনগণ তাদের সরকারের এই জ্বালানি-নির্ভর অদূরদর্শী অবস্থানকে সমর্থন করবে না।

কূটনৈতিক নিঃসঙ্গতা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত সমীকরণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যাওয়া নতুন মাত্রার হামলা পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর পরবর্তী সময়ে ইরান যেভাবে বিভিন্ন দেশে মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্য এক গভীর সংকটের মুখে। বিশেষ করে কুয়েত, জর্ডন ও সৌদি আরবের মতো অঞ্চলে অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা কার্যত বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আসলে তাঁর সেই কূটনৈতিক নিঃসঙ্গতা ও মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ক্ষোভেরই প্রতিফলন।

এক ঝলকে

  • ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রাজনৈতিক সাহসিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক অভিযানে ইটালির অসহযোগিতাকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
  • হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
  • ইরানের পরমাণু হুমকি ও সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আবহে মিত্র দেশগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *