ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া আলুর খোসার জাদুকরী পাঁচ ব্যবহার, মিলবে চমৎকার সমাধান – এবেলা

ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া আলুর খোসার জাদুকরী পাঁচ ব্যবহার, মিলবে চমৎকার সমাধান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাঙালির বারো মাসের সঙ্গী আলুর চাহিদা রান্নাঘরে সবসময়ই তুঙ্গে। তবে রান্নার আগে যে খোসাটিকে সাধারণত আবর্জনা ভেবে ফেলে দেওয়া হয়, তার বহুমুখী ব্যবহার ও গুণের কথা জানলে যে কেউ চমকে উঠবেন। পরিবেশবিদরা এই ফেলে দেওয়া অংশটিকে পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতার জন্য ‘লিকুইড গোল্ড’ বা তরল সোনা বলে অভিহিত করছেন। ঘরোয়া রান্না থেকে শুরু করে সাধের বাগান, সর্বত্রই এই খোসা রাখছে অভাবনীয় ভূমিকা।

গৃহস্থালির বর্জ্য হ্রাস করার পাশাপাশি ঘরোয়া অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে আলুর খোসার পাঁচটি বিশেষ ব্যবহার এখন পরিবেশপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।

রান্নাঘর থেকে বাগানের যত্ন

প্রথমত, আলুর খোসা দিয়ে সহজেই বিকেলের আড্ডার জন্য মুচমুচে ও সুস্বাদু স্ন্যাক্স তৈরি করা সম্ভব। খোসাগুলো ভালো করে ধুয়ে জল শুকিয়ে নেওয়ার পর ছাঁকা তেলে ভেজে অথবা ১৮০ থেকে ২০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেনে ১০-১৫ মিনিট বেক করে নেওয়া যায়। এরপর সামান্য নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো বা চাট মশলা ছড়ালেই তৈরি হয়ে যায় চমৎকার চিপস।

втоরত, গাছের সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি ভেষজ ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে। আলুর খোসায় ‘সোলাইনিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ। খোসাগুলো জলে ফুটিয়ে সেই নির্যাস ঠান্ডা করে গাছে স্প্রে করলে রাসায়নিক ছাড়াই ছত্রাকের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষা পায়।

জৈব সার ও মাশরুম চাষের সহজ উপায়

তৃতীয়ত, বাড়িতে ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরির ক্ষেত্রে আলুর খোসা চমৎকার উপাদান। কেঁচোদের এই প্রিয় খাদ্যটি মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ব্যবহারের আগে খোসাগুলো সেদ্ধ করে নেওয়া উচিত, যাতে নতুন করে কুঁড়ি না গজায়। চতুর্থত, সাধারণ কম্পোস্ট বিনের জন্য এটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট ‘গ্রিন মেটেরিয়াল’। কম্পোস্টে দেওয়ার আগে খোসাগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিলে চারা গজানোর সম্ভাবনা থাকে না।

পঞ্চমত, ফেলে দেওয়া এই খোসা ব্যবহার করে ঘরের কোণেই মাশরুম চাষ করা সম্ভব। কাঠের গুঁড়োর সঙ্গে আলুর খোসা মিশিয়ে সেখানে মাশরুমের বীজ রোপণ করলে খোসার পুষ্টি উপাদান মাশরুমের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ অর্গানিক উপায়ে দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করাই এই ধরনের প্রাকৃতিক উপাদানের পুনঃব্যবহারের মূল কারণ। এর ফলে একদিকে যেমন অপচয় কমছে, অন্যদিকে রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস পাওয়ায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্য উভয়ের ওপরই ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *