ড্রাগনকে বোকা বানিয়ে ব্রহ্মাস্রের সফল পরীক্ষা ভারতের, ঘুম উড়ল চিন ও পাকিস্তানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে বেজিংয়ের পাতা নজরদারির জাল ছিন্নভিন্ন করে বর্ধিত পাল্লার ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে চালানো এই পরীক্ষার যাবতীয় খুঁটিনাটি ও গোপন তথ্য হাতাতে ওই এলাকায় একযোগে চারটি শক্তিশালী গুপ্তচর জাহাজ মোতায়েন করেছিল চিন। কিন্তু ভারতীয় সেনার নিখুঁত রণকৌশল ও একের পর এক চালে কার্যত বেকুব বনে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হয়েছে ড্রাগন বাহিনী। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটি ধ্বংসকারী এই ভারতীয় ব্রহ্মাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর পরীক্ষা রুখতে চিনের এই মরিয়া চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
নোটামের জালে বন্দি চিনা গুপ্তচর জাহাজ
ডিআরডিও-র গবেষকদের তৈরি ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আটকাতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একে একে ‘ইউয়ান ওয়াং ৫’, ‘শেন হাই ই হিও’ এবং ‘লান হাই’-এর মতো চারটি অত্যাধুনিক নজরদারি জাহাজ পাঠায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনী। ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু উপকূলের দিকে ছিল তাদের শ্যেন দৃষ্টি।
চিনের এই আগ্রাসী মনোভাব বুঝতে পেরে পাল্টা চাল চালেন ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আকাশে বিমান চলাচল ও ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করতে প্রথম ‘নোটাম’ (নোটিস টু এয়ারম্যান) জারি করে ২৪-২৫ সেপ্টেম্বরের জন্য। চিনা জাহাজ এলাকায় আসতেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর ১৫-১৮ অক্টোবর এবং পরে ২৫-২৭ নভেম্বরের জন্য দফায় দফায় নোটাম জারি ও বাতিল করে চিনকে বিভ্রান্ত করা হয়। ভারতের এই কৌশলে বিভ্রান্ত হয়ে চিনারা ভেবেছিল ভারত হয়তো ৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করবে, যার জন্য তারা মলদ্বীপের বন্দরেও জাহাজ পাঠায়।
অবশেষে ৩০ নভেম্বর ভারত সরকার সমস্ত নোটাম বাতিল করে আপাতত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে ঘোষণা করে। মোদী সরকারের এই ঘোষণায় নিশ্চিত হয়ে চিনা গুপ্তচর জাহাজগুলি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে ফিরে যাওয়ার পথ ধরে এবং তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। চিনা বাহিনী চোখ সরাতেই ১ ডিসেম্বর অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য জরুরি নোটাম জারি করে আন্দামান-নিকোবরের তিন বাহিনীর কমান্ড বর্ধিত পাল্লার ব্রহ্মসের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও ব্রহ্মসের ভবিষ্যৎ
এই সফল পরীক্ষার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হলো। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন চিনের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এইচকিউ ৯পি’ পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় এমনিতেই চিন্তায় ছিল বেজিং ও ইসলামাবাদ, এখন ব্রহ্মসের পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে পৌঁছানোয় তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ডিআরডিও বর্তমানে শব্দের চেয়ে তিন গুণ গতিসম্পন্ন এবং ওজনে হালকা ‘ব্রহ্মস এনজি’ (নিউ জেনারেশন) তৈরির কাজ চালাচ্ছে, যা মিগ-২৯ বা তেজসের মতো হালকা যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। ২০২৬ সালেই এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। পাশাপাশি, শব্দের চেয়ে আট গুণ গতিসম্পন্ন ও ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস টু’ তৈরির গবেষণাও অনেক দূর এগিয়েছে।
ভারতের এই সামরিক সাফল্য আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিলিপিন্সের পর বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা আগামী দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
