ঢাকায় নতুন ইতিহাস, পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে প্রথমবার ঘরের মাঠে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে চিরচেনা দাপট দেখিয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্টে হারানোর গৌরব অর্জন করল টাইগাররা। একইসঙ্গে টানা তিন টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পেস ও স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণে মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় শান মাসুদের দল।
নাহিদ রানার গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড পাকিস্তান
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে যখন সৌদ শাকিল ও মহম্মদ রিজওয়ান জুটি গড়ে ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিলেন, ঠিক তখনই আঘাত হানেন রানা। নিজের গতি এবং নিখুঁত লেংথে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন এই তরুণ তুর্কি। চা-বিরতির পর রানার বিধ্বংসী স্পেল পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। মূলত তার আগুনে বোলিংয়েই জয়ের পথে থাকা বাধাগুলো দ্রুত অপসারিত হয়।
টাইগারদের পরিকল্পিত ব্যাটিং ও লিড
বাংলাদেশের এই জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। ৪১৩ রান তুলে ২৭ রানের লিড নিয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৭ রানের লড়াকু ইনিংস এবং মেহেদি হাসান মিরাজের কার্যকরী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ২৫০ রানের বেশি লিড পাওয়ায় শেষ দিনে বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। পেসার তাসকিন আহমেদ শুরুতেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে বিপক্ষ শিবিরে কাঁপুনি ধরিয়ে দেন।
পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি ও পাকিস্তানের বিপর্যয়
এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ ১২ পয়েন্ট যোগ করল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে চলতি সিরিজে হার এড়ানো নিশ্চিত হয়ে গেল টাইটানদের। অন্যদিকে, বারবার অধিনায়ক ও কোচ পরিবর্তন করেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পাকিস্তান। ঢাকার এই পরাজয় বাবর আজমদের জন্য কেবল একটি হার নয়, বরং বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা। একসময়ের সহজ প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের কাছে ধারাবাহিকভাবে হারতে থাকা পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
