তরমুজ খেয়ে প্রাণ গেল কিশোরের! আশঙ্কাজনক আরও ৩ শিশু, শোকের ছায়া – এবেলা

তরমুজ খেয়ে প্রাণ গেল কিশোরের! আশঙ্কাজনক আরও ৩ শিশু, শোকের ছায়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলায় কাটা তরমুজ খেয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই খাবার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও তিন শিশু। ঘুরকোট গ্রামের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা একে তীব্র ‘ফুড পয়জনিং’ বা খাদ্য বিষক্রিয়া হিসেবে ধারণা করছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আকস্মিক অসুস্থতা

নিহত কিশোরের নাম অখিলেশ ধীবর, যে সম্প্রতি আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে বাড়িতে আগে থেকে কেটে রাখা একটি তরমুজ অখিলেশসহ মোট চার শিশু মিলে খায়। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই অখিলেশের বমি, পাতলা পায়খানা এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দ্রুত অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অন্য তিন শিশু—শ্রী ধীবর (৪), পিন্টু ধীবর (১২) ও হিতেশ ধীবরকে (১৩) আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকের ব্যাখ্যা ও তদন্ত প্রক্রিয়া

হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, তরমুজটি সকালে কাটা হয়েছিল এবং কয়েক ঘণ্টা খোলা অবস্থায় রাখার পর শিশুরা তা গ্রহণ করে। দীর্ঘ সময় ফল কেটে রাখলে তাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও সংক্রমণ বাসা বাঁধতে পারে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ ওই বাড়ি থেকে তরমুজের অবশিষ্টাংশ ও নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, গরমে কাটা ফল দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে তরমুজের মতো জলীয় ফল কাটার সাথে সাথে খাওয়া নিরাপদ। এই ঘটনাটি গ্রীষ্মকালীন খাদ্যাভ্যাস এবং পচনশীল ফল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে। ল্যাব রিপোর্ট আসার পর এই বিষক্রিয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *