তারাতলা দুর্ঘটনার পর বেআইনি নির্মাণ রুখতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি রাজ্যে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজ্যে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী আরও কঠোর করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে কোনও নির্মাণ প্রকল্পেই নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা বা প্ল্যানে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দেওয়া অনুমোদনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিয়মের তোয়াক্কা না করে যাঁরা বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য নগরায়ণ থামানো নয়, বরং গার্ডেনরিচ বা তারাতলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কঠোর অডিটের আওতায় যেসব এলাকা ও ক্ষেত্র
এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে কলকাতা পুরসভাকে নোডাল সংস্থা করে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার, সার্ভেয়ার, সয়েল টেস্ট বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ দল শুক্রবার দুপুর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে কলকাতা, বিধাননগর, রাজারহাট-নিউটাউন, হাওড়া পুরসভার আংশিক এলাকাসহ গঙ্গার তীরবর্তী সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পকে এই কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তবে রেল, মেট্রো রেল, জাতীয় সড়ক, স্টেট হাইওয়ে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জরুরি উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে এই সাময়িক বিশেষ নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
তিন স্তরের সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রভাব
বিশেষ এই সেফটি অডিটের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে। গুরুতর নিয়মভঙ্গ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে, আংশিক ত্রুটির ক্ষেত্রে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে পর্যায়ক্রমে কাজের ছাড়পত্র মিলবে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রাথমিক অডিট শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও, যে সব ওয়ার্ড বা প্রকল্প আগে ছাড়পত্র পাবে, তারা সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারবে। এর পাশাপাশি আগামী ৯০ দিনে রাজ্যের সমস্ত বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে ফায়ার সেফটি এবং বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থার মতো জরুরি সুরক্ষাকবচ খতিয়ে দেখতে কমিটিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর নজরদারির ফলে ভবিষ্যতে আবাসন শিল্পে নিয়মতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ফিরবে এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
