তিন দশক পর ভাঙল নীরবতা, ১৯৯৩ সালের সেই বিতর্কিত বডিপেইন্ট ফটোশ্যুট নিয়ে বিস্ফোরক পূজা ভাট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নব্বই দশকের অন্যতম সাহসী ও আলোচিত অভিনেত্রী পূজা ভাট দীর্ঘ তিন দশক পর তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বিতর্কিত বডিপেইন্ট ফটোশ্যুট নিয়ে মুখ খুলেছেন। ১৯৯৩ সালের সেই বিখ্যাত ম্যাগাজিন কভারের পেছনের আসল সত্য প্রকাশ করে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তৎকালীন সময়ে রটে যাওয়া খবরের মতো তিনি সেই ফটোশ্যুটে মোটেও সম্পূর্ণ নগ্ন ছিলেন না।
আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের অনুপ্রেরণা ও ফটোশ্যুটের নেপথ্য কাহিনী
এক সাক্ষাৎকারে পূজা ভাট জানান, তৎকালীন জনপ্রিয় সাংবাদিক দিনেশ রহেজা এবং বিখ্যাত ফটোগ্রাফার জগদীশ মালির যৌথ প্রস্তাবে তিনি এই ফটোশ্যুট করতে রাজি হয়েছিলেন। হলিউড তারকা ডেমি মুরের একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনের কভার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা ভারতে অনুরুপ কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। পূজা ভাটের মতে, প্রখ্যাত নকশাকার আন্না সিং তাঁর শরীরে বডিপেইন্টিং করেছিলেন। ‘ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ি’ চলচ্চিত্রের একটি গানের শ্যুটিং শেষ করে মাঝরাতে জগদীশ মালির স্টুডিওতে এই সাহসী শ্যুটটি সম্পন্ন হয়েছিল, যা প্রকাশের পরপরই বাজারে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করে।
সামাজিক প্রভাব ও প্রকৃত সত্যের উন্মোচন
দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন জগতে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল যে এই বডিপেইন্টিংয়ের সময় অভিনেত্রী সম্পূর্ণ বিবস্ত্র ছিলেন। এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করে পূজা ভাট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি উপযুক্ত অন্তর্বাস পরেই শ্যুটিং করেছিলেন এবং পেশাদার কাজের ক্ষেত্রে তাঁরা শালীনতার নির্দিষ্ট সীমা বজায় রেখেছিলেন। সেই রক্ষণশীল সময়ে এই সাহসী পদক্ষেপ ভারতীয় সমাজ ও গণমাধ্যমে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। একদিকে পূজা যেমন সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, অন্যদিকে বহু মানুষ তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসাও করেছিলেন। তবে ম্যাগাজিনটি প্রকাশের পরপরই ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় এই বিতর্কটি তৎকালীন সময়ে মূল ধারার সংবাদ থেকে কিছুটা আড়ালে চলে যায়। পূজা ভাটের এই নতুন খোলসা নব্বইয়ের দশকের বিনোদন জগতের কাজের পরিবেশ এবং তারকাদের সাহসী সিদ্ধান্তের পেছনের মনস্তত্ত্বকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুন করে উন্মোচিত করেছে।
