তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতার মালিক ও ম্যানেজার! রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই বড় পদক্ষেপ পুলিশের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তিলজলার জতুগৃহে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। মঙ্গলবার তপসিয়ার জিজে খান রোডের একটি চামড়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার সকালে কারখানার মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি আজ সকাল ১১টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই চারতলা ভবনের দোতলায় আগুন লাগার পর কারখানার কর্মীরা আতঙ্কে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকেই তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে আরও তিন জন চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গতকাল রাত ৯টার মধ্যেই থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অবৈধ নির্মাণ ও সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, কারখানাটি দীর্ঘ দিন ধরে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই জনবহুল এলাকায় চলছিল। ভবনটির কাঠামোয় যেমন গলদ ছিল, তেমনই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনো বালাই ছিল না। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকল কর্মীদের প্রবেশেও চরম বেগ পেতে হয়। মূলত কোনো যথাযথ নির্গমন পথ না থাকায় কর্মীরা ভিতরে আটকে পড়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও কঠোর হুঁশিয়ারি
সাড়ে তিন মাস আগে নাজিরাবাদে ২৭ জনের প্রাণহানির পর তিলজলার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজ্য সরকার। পুলিশ ও পুর কমিশনারসহ শীর্ষ সচিবদের নিয়ে গঠিত কমিটি ঘটনার কারণ ও দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে আর কোনো বেআইনি কারখানা চলতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক ও অবৈধ ভবনগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই ঘটনায় মালিকপক্ষের গ্রেফতারি মূলত অন্যান্য অবৈধ কারখানা মালিকদের প্রতি প্রশাসনের একটি কঠোর বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
