তীব্র দাবদাহে হার্ট বাঁচাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৮টি ম্যাজিক ফুড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক নাজেহাল দশা তৈরি হয়েছে। এই চরম আবহাওয়ায় শুধু শরীরই ক্লান্ত হয়ে পড়ছে না, বরং মানবদেহের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হৃদ্যন্ত্রের ওপরও সৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ। চিকিৎসকদের মতে, তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে শরীরকে স্বাভাবিক ও ঠান্ডা রাখতে হৃদ্যন্ত্রকে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে এই সময়ে ডিহাইড্রেশন, রক্তচাপের আচমকা ওঠানামা, চরম শারীরিক দুর্বলতা এবং বিশেষ করে হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ওষুধের পাশাপাশি সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
গরমে হার্টের সুরক্ষায় ডায়েটের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের এই মরসুমে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত জলপান করাই যথেষ্ট নয়, বরং শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের যত্ন নেয় এমন খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। জলীয় উপাদান, শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজে ভরপুর কিছু বিশেষ খাবার বা ‘সুপারফুড’ এই তীব্র গরমে হৃদ্যন্ত্রকে স্বস্তি দিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
শরীর ঠান্ডা ও সুস্থ রাখার ৮টি সুপারফুড
তীব্র গরমের ধকল সামলাতে এবং হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা আটটি খাবারকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন:
- তরমুজ: প্রায় ৯২ শতাংশ জলসমৃদ্ধ এই ফল শরীরকে দ্রুত হাইড্রেটেড করে। এর লাইকোপেন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদ্রোগের ঝুঁকি ও প্রদাহ কমায় এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- শসা: অত্যন্ত কম ক্যালরি ও প্রচুর জলসমৃদ্ধ শসা শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে, ক্লান্তি দূর করে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে।
- ডাবের জল: এটি একটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পানীয়। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এটি অনন্য।
- লাউ: গরমের উপযোগী এই সহজপাচ্য সবজিটিতে প্রচুর জল থাকে, যা শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হৃদ্রোগীদের জন্য হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে দারুণ বিকল্প।
- দইয়ের ঘোল: ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ ঘোল হজমশক্তি বাড়ায় এবং দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস ঘোল শরীরের অস্বস্তি ও ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে।
- বেদানা: বেদানায় থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তনালির কার্যকারিতা সচল রাখে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
- সবুজ শাক: পালং বা লেটুসের মতো শাকে থাকা নাইট্রেট, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ওটস ও গোটা শস্য: ওটসের বিশেষ ফাইবার ‘বিটা-গ্লুকান’ শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। গরমের দিনে ফলের সাথে ওটস খেলে তা শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতে এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।
জলসমৃদ্ধ ফল, প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট এবং ফাইবারসমৃদ্ধ এই খাবারগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রেখে হৃদ্যন্ত্রের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমিয়ে দেয়, যা এই তীব্র গরমেও শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সক্ষম।
