তুমি এসেছিলে পুত্রবধূ হয়ে, চলে গেলে পতিতা হয়ে! সেই কালজয়ী চলচ্চিত্র যা বদলে দিয়েছিল সমাজ ও সিনেমার ধারণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে বিআর চোপড়া কেবল একজন সফল পরিচালকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন সাহসী সমাজ সংস্কারক। ১৯৫৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘সাধনা’ তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তার রেশ আজও চলচ্চিত্র ইতিহাসের পাতায় অম্লান। যৌনকর্মীদের জীবনের অন্ধকার দিক এবং সমাজের মূলধারায় তাঁদের পুনর্বাসনের সাহসী দাবি তুলে ধরেছিলেন তিনি এই সিনেমার মাধ্যমে।
বিতর্ক ও পরিবেশকদের শঙ্কা চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু যখন প্রথম প্রকাশ্যে আসে, তখন তা চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত ‘চম্পা’ চরিত্রটি ছিল একজন পতিতার, যে সমাজের চোখে ব্রাত্য। সিনেমার পরিবেশকরা এই ধরনের স্পর্শকাতর গল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন। তবে কোনো নেতিবাচক মন্তব্যে কান না দিয়ে চোপড়া নিজের গল্পে অবিচল ছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সাফল্যের গ্যারান্টি নয়, বরং গল্পের গভীরতা ও সামাজিক প্রয়োজনীয়তাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একটি শক্তিশালী ক্লাইম্যাক্স ও সামাজিক প্রভাব ‘সাধনা’ সিনেমার সবথেকে আলোচিত অংশ ছিল এর অন্তিম দৃশ্য বা ক্লাইম্যাক্স। প্রথমে ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে গল্পের ইতি টানার পরিকল্পনা থাকলেও, বিআর চোপড়া চেয়েছিলেন একটি জোরালো সামাজিক বার্তা দিতে। তাঁর নির্দেশনায় সিনেমার শেষে দেখা যায়, একজন মা তার পুত্রবধূর হাত ধরে বলছেন যে, সে এই বাড়িতে সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেছে এবং তাকে কোনোভাবেই হীন চোখে দেখা হবে না। এই একটি সংলাপ এবং দৃষ্টিভঙ্গি তৎকালীন দর্শকদের মনে গভীর রেখাপাত করেছিল।
এই সাহসিকতার ফলস্বরূপ ‘সাধনা’ বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায়। বিশেষ করে মহিলা দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় তৎকালীন সিনেমা হলগুলোতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। বিআর চোপড়া প্রমাণ করেছিলেন যে, সুস্থ বিনোদনের মোড়কেও কঠোর সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন করা সম্ভব। তাঁর এই দর্শনই পরবর্তীকালে ‘নয়া দৌড়’ বা ‘মহাভারত’-এর মতো সৃষ্টিগুলোকে অমর করে রেখেছে।
এক ঝলকে
- ১৯৫৮ সালে বিআর চোপড়া পরিচালিত ‘সাধনা’ চলচ্চিত্রটি পতিতাবৃত্তিতে জড়িত নারীদের সামাজিক সম্মান নিয়ে নির্মিত হয়েছিল।
- সিনেমাটি নিয়ে পরিবেশকরা আশঙ্কিত থাকলেও এটি সেই সময়ে বক্স অফিসে বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্য পায়।
- ছবির শেষ দৃশ্যে পুত্রবধূকে পতিতা হিসেবে নয় বরং পরিবারের অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার বার্তাটি আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালা ও সুনীল দত্তের অভিনয় সিনেমাটিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
