“তৃণমূলের খেলা শেষ, বাংলা এখন রাজনৈতিক অবলুপ্তির পথে!” এক্সিট পোল আসতেই শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি

“তৃণমূলের খেলা শেষ, বাংলা এখন রাজনৈতিক অবলুপ্তির পথে!” এক্সিট পোল আসতেই শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে বিপুল জনজোয়ার আসলে বর্তমান সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশের রেকর্ড ভোটদানকে পরিবর্তনের ‘সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিত দেন।

অবাধ নির্বাচন ও তৃণমূলের পরাজয়

রাজ্য বিজেপি সভাপতির মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিতে পেরেছেন বলেই এই উচ্চ হার সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত অভিযোগের সমালোচনা করে শমীক ভট্টাচার্য জানান, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই শাসকদল এখন বাহিনীর ওপর দায় চাপাচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে, বাংলার মানুষ এবার হারানো সম্মান এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, যার ফলে তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক দাদাগিরি’র অবসান ঘটতে চলেছে।

দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলোকে এবারের নির্বাচনে প্রধান হাতিয়ার করেছে বিজেপি। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর চোখের জলের জবাব মানুষ ইভিএমে দিয়েছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম মেনেই তৃণমূল কংগ্রেস এখন অবলুপ্তির পথে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বিজেপির এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং রেকর্ড ভোটদান আগামী ৪ মে-র ফলাফলে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ রেকর্ড ভোটদান হয়েছে।
  • তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে অবলুপ্ত হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
  • নিয়োগ দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই এই বিপুল ভোটদানের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
  • আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল রাজ্যে নতুন ও স্বচ্ছ রাজনীতির সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা বিজেপির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *