স্ক্রুটিনিতে এবার কড়া কমিশন, ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে অশান্তি ও অনিয়মের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়ার পর এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল এবং ইভিএমে টেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে স্ক্রুটিনির কাজে কোনো রকম আপস না করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সাধারণত দপ্তরে বসে স্ক্রুটিনির কাজ হলেও, এবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সশরীরে ময়দানে নামছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।
অভিযোগের পাহাড় ও কমিশনের সক্রিয়তা
দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ৭৭টি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা, মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবার ও বজবজ বিধানসভা কেন্দ্র অন্যতম। বিশেষ করে ফলতা থেকে একাই ৩২টি অভিযোগ এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বুথগুলো পরিদর্শন করবেন। অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে সেখানে ভোট বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ফলতা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক
নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির কাছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও রাজনৈতিক মহলে চর্চিত। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি ও স্ক্রুটিনিতে কমিশনের কড়া মনোভাব নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে কোন কোন বুথে আবারও ভোট গ্রহণ করা হবে।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফার ভোটে জমা পড়া ৭৭টি গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামছে কমিশন।
- ফলতা, ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের বুথগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সরজমিনে পরিদর্শন করবেন।
- বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
- স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় এবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
