তৃণমূলে ঐতিহাসিক ধস, ২০ সাংসদকে টেনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় চমক এনসিপিআই দম্পতির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ ও ভাঙনের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে এক আকস্মিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দিল্লির বুকে আচমকাই ‘এনসিপিআই’ (NCPI) নামক একটি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। এই হেভিওয়েট দলবদলের পরই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এই নতুন দলের প্রতিষ্ঠাতা দম্পতি উত্তীয় কুণ্ডু ও শিউলি কুণ্ডু। নদিয়া ও হাওড়ার ভূমিপুত্রের হাত ধরে জাতীয় স্তরে এমন আকস্মিক রাজনৈতিক উত্থান বর্তমান বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাজসেবা থেকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায়
এনসিপিআই দলের মূল কাণ্ডারি উত্তীয় কুণ্ডুর এই রাজনৈতিক উত্তরণ গতানুগতিক ধারার নয়। রানাঘাটের লালগোপাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুলশিক্ষা শেষ করে শান্তিপুর কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক এবং পরবর্তীতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন এই মেধাবী গবেষক। পড়াশোনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি হাওড়ায় ‘জাগো বিশ্ব’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন। ২০২২-২৩ সালের দিকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই মূলত এই সংগঠনের জন্ম। স্রেফ ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছানো নয়, বরং মানুষের জন্য আরও বৃহত্তর পরিসরে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই উত্তীয়, তাঁর স্ত্রী শিউলি কুণ্ডু ও আরেকজন সহযোগী মিলে এই সামাজিক সংগঠনটিকে শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলের রূপ দেন।
দলবদলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের এই বড়সড় ভাঙন এবং এনসিপিআই-এর আত্মপ্রকাশের নেপথ্যে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও নতুন কোনো বিকল্প মঞ্চের অনুসন্ধানকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভাবনীয় দলবদল প্রসঙ্গে উত্তীয় কুণ্ডুর মা সীমা কুণ্ডু জানিয়েছেন, যাঁরা যোগ দিয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই রাজনীতির অত্যন্ত অভিজ্ঞ মানুষ এবং দেশের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের সামগ্রিক স্বার্থের কথা ভেবেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শক্তিতে বড় ধাক্কা লাগল, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত হলো। একঝাঁক হেভিওয়েট বিদায়ী সাংসদের এই যোগদান আগামী দিনে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে এক দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
