তৃণমূলে ভাঙনের মহাসংকট, সুদীপকে তোপ দেগে মমতার ভুল বোঝালেন কুণাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চলমান তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই উত্তর কলকাতার বিদায়ী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদল জল্পনা নিয়ে বেনজির আক্রমণ শাণালেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। লোকসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে পৃথক ব্লক গঠনের পথে, ঠিক তখনই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বেসুরো’ অবস্থান এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সুদীপের এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত সিদ্ধান্তের ভুল ত্রুটি নিয়েও এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন কুণাল।
শনিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের বিজেপি যোগের জল্পনা উস্কে দেওয়ার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ। তিনি সুদীপ ও তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করে মন্তব্য করেন, ওঁর যাওয়া মানে বিজেপির জন্য ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’। অতীতে তাপস রায়ের প্রশংসা করায় দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে বলেন, এটি নেত্রীর ‘প্রাপ্য ও পাওনা’। কারণ সুদীপের মতো ব্যক্তিদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মাথায় তুলে রেখেছিলেন। এমনকি দুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি যাওয়ার ঘটনার সময়েও সুদীপ খোঁজখবর নিলেও শেষ পর্যন্ত নেত্রীর পাশে না দাঁড়িয়ে মোদী শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন বলে দাবি করেন কুণাল।
তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের মূল কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি দলীয় সাংসদদের একাংশের গভীর অনাস্থা। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন পৃথক ব্লক তৈরি করে এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সুদীপ ও শতাব্দী যোগ দিলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ ছাড়া কালীঘাটের পাশে আর মাত্র চারজন সাংসদ অবশিষ্ট থাকবেন।
এই ব্যাপক ভাঙনের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব ও গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় দলের একক শক্তি খর্ব হওয়ার পাশাপাশি বাংলায় দলের সাংগঠনিক ভিত ও একাধিপত্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে। শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসনে এবং দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল গঠনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
