তৃণমূল কার্যালয়ে মিলল বস্তা বস্তা আধার কার্ড, জলহাটিতে তীব্র চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটিতে একটি তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে হাজার হাজার সিলবন্ধ আধার কার্ড উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। প্রায় তিন হাজার আধার কার্ড কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এলো, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্য দানা বেঁধেছে।
বিজেপি কর্মীদের হাতেনাতে উদ্ধার
জলহাটি পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সরকারি কমিউনিটি হল দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কার্যালয় চালাচ্ছিল বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি জয়লাভ করার পর, স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ওই ঘরটি খালি করার দাবি নিয়ে সেখানে হাজির হন। কার্যালয় সরানোর প্রক্রিয়া চলাকালীন ঘরের একটি টেবিলের নিচে বিজেপি কর্মীদের নজরে আসে বস্তাভর্তি গোছা গোছা আধার কার্ড। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
আধার জালিয়াতি ও দুর্নীতির আশঙ্কা
উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ আধার কার্ডের প্রকৃত উৎস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বহুবার আবেদন করা সত্ত্বেও তারা নিজেদের আসল আধার কার্ড হাতে পাননি। বাধ্য হয়ে অনেককেই ইন্টারনেট থেকে কপি ডাউনলোড করে কাজ চালাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডাকবিভাগের মাধ্যমে আসা সরকারি সিলবন্ধ আধার কার্ড কীভাবে ডাকঘরের পরিবর্তে তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছাল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের আধার কার্ড আটকে রেখে কোনো বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি বা ভোটার তালিকায় কারচুপির মতো বেআইনি কাজ করার উদ্দেশ্যে এগুলি মজুত করা হয়েছিল।
তৃণমূলের নীরবতা ও আগামী প্রভাব
এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে গেছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কীভাবে ওই সরকারি নথি পার্টি অফিসে এলো সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। দলের অন্য কোনো উচ্চপদস্থ নেতাও এই বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা জলহাটি তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে তৃণমূলের ভাবমূর্তি আরও কালিমালিপ্ত করতে পারে। সরকারি নথি চুরির এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং ডাকবিভাগের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
