তেলের বাজারে আগুন! ট্রাম্পের এক হুঙ্কারে ১২০ ডলার পেরোলো অপরিশোধিত তেল, পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ জারি রাখার ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দেশটিকে আলোচনায় বাধ্য করতে ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না ইরান আমেরিকার দেওয়া শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত বাড়াতে শুরু করায় হু হু করে বাড়ছে দাম।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ বজায় রাখার ট্রাম্পের ঘোষণায় তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে।
- ইরানকে পরমাণু চুক্তি মানতে বাধ্য করতেই এই কঠোর বাণিজ্যিক ও নৌ-অবরোধ।
- গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির প্রবল সম্ভাবনা।
- এই পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
