তোলাবাজি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, শান্তনু গ্রেফতারের পরেই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার খোলনলচে বদলে ফেলতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতি মামলায় কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তথা পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের অন্যতম সমন্বায়ক শান্তনু সিংহ বিশ্বাস গ্রেফতার হতেই ওই বোর্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে টোটো, অটো ও হকারদের থেকে তোলাবাজি এবং সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়া বন্ধ করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল জমানার বোর্ডের অবসান
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন করেছিলেন। তবে এই বোর্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলছিল বিরোধীরা। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ভালো উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও পরবর্তীকালে এই বোর্ড একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। শান্তনু সিংহ বিশ্বাস বা বিজিতাশ্ব রাউতের মতো অফিসাররাই এর দ্বারা লাভবান হচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবারই বোর্ডটি ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি, যা আগামী সোমবার সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর হতে চলেছে।
আইনের শাসন ও কাটমানি বিরোধী কড়া বার্তা
প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) মেনে কাজ করবে। রাজনৈতিক হিংসার শিকার বা পুলিশের দ্বারা হেনস্থার শিকার হওয়া যে কেউ উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সহ থানায় এফআইআর দায়ের করতে পারবেন। বিশেষত নারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে থানায় কোনো রকম তিক্ত অভিজ্ঞতা হলে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানানোর অধিকার দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে কাউকে কাটমানি দিতে হলে সরাসরি থানায় অভিযোগ করতে হবে। টোটো, অটো কিংবা হকারদের থেকে কোনো রকম অবৈধ তোলা আদায় বরদাস্ত করা হবে না। রসিদ ছাড়া কাউকেই কোনো অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পুলিশ কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে। তবে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।
