ত্রাণের বস্তা পাচারের চেষ্টা রুখল জনতা, প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির সামনে তুমুল বিক্ষোভ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়ের বাড়ির সামনে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাচারের অভিযোগে শনিবার সকালে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। বিধায়কের বাড়ির সংলগ্ন একটি গোডাউন থেকে ম্যাটাডোরে করে বস্তা বস্তা ত্রিপল ও কম্বল সরানোর চেষ্টা করতেই হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এবং বিধায়কের বাড়ির সামনে ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে বিধায়কের কার্যালয় সংলগ্ন গোডাউনে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। শনিবার সকালে অত্যন্ত গোপনে একটি ম্যাটাডোরে করে সেইসব সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও বাসিন্দারা গাড়িটি আটকে দেন। এরপরই গোডাউনের ভেতরে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় সবার। দেখা যায়, সেখানে কেবল কম্বল বা ত্রিপলই নয়, করোনাকালে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ পিপিই কিট, হুইল চেয়ার এমনকি খেলার সামগ্রীও মজুত রয়েছে, যার বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।
ঘটনার কারণ ও প্রশাসনের ভূমিকা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঠিক আগের দিনই ডোমজুড়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের বাড়ির কাছের একটি গুদামে হানা দিয়ে একইভাবে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরপর দু’দিন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের এলাকা থেকে এভাবে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, যার জেরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বচসাও বাধে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়। তাঁর দাবি, বিভিন্ন উৎসবের সময় গরিব মানুষের জন্য সরকারি নিয়ম মেনেই বিধায়কদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়। বিলি করার পর যেটুকু উদ্বৃত্ত ছিল, তা জেলাশাসকের দপ্তরে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাই করা হচ্ছিল। তবে এই ব্যাখ্যায় ক্ষোভ কমেনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে এভাবে বছরের পর বছর গোডাউনে পড়ে থাকা এবং তা গোপনে সরানোর চেষ্টা স্থানীয় স্তরে শাসকদলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ওই এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
