ত্রাস হয়ে নামছে তিস্তা, ধসে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের যোগাযোগ: উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা – এবেলা

ত্রাস হয়ে নামছে তিস্তা, ধসে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের যোগাযোগ: উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শিলিগুড়ি, ১৩ জুলাই ২০২৬: টানা বর্ষণের জেরে ফুঁসছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলি, আর পাহাড়জুড়ে বাড়ছে ধসের আশঙ্কা। গত রাত থেকে কালিম্পং ও সিকিমে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তিস্তাবাজার সংলগ্ন এলাকায় জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একাধিক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংকে সংযুক্তকারী প্রধান সড়কের একাংশ ডুবে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে সেবকের বাঘপুলের কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে গাড়িগুলিকে ডুয়ার্সের বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও ধসের আশঙ্কা ও প্রশাসনের সতর্কতা: আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি চরমে। বিশেষ করে গভীর রাতে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে ধসের সম্ভাবনা বেশি থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।

আগামী দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: দক্ষিণ বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব বিহারে জোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে এই অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে, তবে শুক্রবার থেকে ফের কালিম্পং ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন।

প্রশাসনের জরুরি নির্দেশিকা:

  • গুজবে কান দেবেন না: যেকোনো তথ্যের জন্য কেবল সরকারি সূত্রের ওপর আস্থা রাখুন।
  • নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন: বাড়ির আশেপাশে মাটির কম্পন বা অস্বাভাবিক ফাটল দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
  • পর্যটকদের জন্য পরামর্শ: এই মুহূর্তে পর্যটকদের হোটেল বা নিরাপদ স্থানে থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
  • জরুরি যোগাযোগ: নদীর তীরবর্তী বা খাড়া ঢালু এলাকায় বসবাসকারীদের স্থানীয় প্রশাসনের শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। রাস্তা থেকে জল নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার ও বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *