‘দাবাং’ ইমেজের আড়ালে দুর্নীতির পাহাড়? পুলিশ পর্যবেক্ষকের পর্দাফাঁস করল তৃণমূল ও অখিলেশ!

‘দাবাং’ ইমেজের আড়ালে দুর্নীতির পাহাড়? পুলিশ পর্যবেক্ষকের পর্দাফাঁস করল তৃণমূল ও অখিলেশ!

বাংলায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা উত্তরপ্রদেশের আইপিএস আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিজেকে ‘দাবাং’ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও, তাঁর অতীত রেকর্ড নিয়ে পালটা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টি। শাসকদলের দাবি, জনমানসে নায়ক সাজার চেষ্টা করা এই পুলিশ আধিকারিক আসলে বিজেপির হয়ে দালালি করতে বাংলায় এসেছেন।

বিতর্কিত অতীত ও দুর্নীতির অভিযোগ

তৃণমূলের পক্ষ থেকে তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়েছে, এই আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে খোদ উত্তরপ্রদেশেই গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে ‘ক্যাশ ফর পোস্টিং’ বা টাকার বিনিময়ে বদলি চক্রে জড়িত থাকার দায়ে তাঁকে রামপুর থেকে সরিয়ে উন্নাওয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠিয়েছিল যোগী সরকার। শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, এক মহিলার করা শ্লীলতাহানি ও প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত দায়ের হয়েছিল। বর্তমানে সেই অভিযুক্ত আধিকারিককেই বাংলায় নিরপেক্ষতার তকমা দিয়ে পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজেপির এজেন্ট হওয়ার তকমা

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছেন, বিজেপি তাদের পরীক্ষিত ‘এজেন্টদের’ পর্যবেক্ষকের মুখোশে বাংলায় পাঠিয়েছে। অখিলেশের মতে, এরা আধিকারিক পদমর্যাদার আড়ালে আসলে বিজেপির গোপন সদস্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই ধরনের আধিকারিকদের কৃতকর্মের হিসাব নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করতেই এই ধরণের বিতর্কিত আধিকারিকদের কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে হানা দিয়ে বিতর্কে আইপিএস অজয় পাল শর্মা।
  • ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে টাকার বিনিময়ে পোস্টিং পাইয়ে দেওয়ার পুরনো অভিযোগ রয়েছে।
  • শ্লীলতাহানি ও প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল যোগীরাজ্যে।
  • অখিলেশ যাদব ও তৃণমূলের দাবি, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক নয় বরং বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *