দেশে ঢুকল বর্ষা, চরম অস্বস্তির মাঝেই বঙ্গে শুরু দিন গোনা – এবেলা

দেশে ঢুকল বর্ষা, চরম অস্বস্তির মাঝেই বঙ্গে শুরু দিন গোনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টি আর দক্ষিণবঙ্গে তীব্র ভ্যাপসা গরমের দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝেই অবশেষে দেশে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্দামান সাগর, নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের একটি বড় অংশে বর্ষা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গজুড়েও বর্ষা আসার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহেই বাংলায় পুরোদমে বর্ষার প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে।

রবিবারে দক্ষিণে ঝড়-বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা

মৌসুমী বায়ুর এই সক্রিয়তার আবহেই রবিবার ছুটির দিনে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যার কারণে এই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবারও উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে এই খামখেয়ালি আবহাওয়া বজায় থাকবে।

উত্তরে ধসের আশঙ্কা ও আবহাওয়ার জোড়া রূপ

দক্ষিণবঙ্গ যখন বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছে, তখন উত্তরবঙ্গের ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে টানা ভারী বৃষ্টির দাপট চলছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাগাতার এই বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি অঞ্চলে ধস নামার এবং নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুর সময়োপযোগী ও অনুকূল অগ্রগতির কারণেই দেশজুড়ে বর্ষার এই আগমন ঘটেছে। এর প্রভাবে আগামী দিনগুলিতে সমগ্র রাজ্যেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়বে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এই অতিবৃষ্টি বন্যা পরিস্থিতি এবং পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে সাময়িকভাবে ঝড়-বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি এখনই পুরোপুরি কাটছে না। তবে বর্ষা পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসলে তীব্র গ্রীষ্মের দাপট থেকে সাধারণ মানুষ বড়সড় রেহাই পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *