দেশ বাঁচাতে মমতার পাশেই থাকুক বাম-কংগ্রেস কর্মীরা, বেলেঘাটায় হুঙ্কার কেজরিওয়ালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ এক অন্য মাত্রা পেল। রবিবার বেলেঘাটায় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিজেপি-বিরোধী সব দলের কর্মীদের তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই লড়াই কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। বাম ও কংগ্রেসের ভোট ভাগাভাগি হলে প্রকারান্তরে বিজেপিরই সুবিধা হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ ও বাংলা সংস্কৃতির রক্ষা
বিজেপির শাসনকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বাঙালির অস্মিতা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে বিজেপি। স্বাধীনতা আন্দোলনে সুভাষচন্দ্র বসু ও ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঙালি কখনও মাথা নত করেনি এবং এই নির্বাচনেও বাংলার মানুষ বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের খতিয়ান
জনসভা থেকে কেজরিওয়াল তৃণমূল সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রশংসা করেন। দিল্লির উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাবে। দিল্লিতে বিজেপি ‘মহিলা সম্মান যোজনা’র মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর না হওয়ায় তিনি পদ্ম শিবিরকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি জনগণকে সাবধান করে বলেন, বিজেপি দিতে জানে না, শুধু নিতে জানে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও জোটের বার্তা
কেজরিওয়ালের এই সফর এবং তৃণমূলের সমর্থনে সওয়াল করা জাতীয় স্তরের ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ রসায়নকে আরও সংহত করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কুণাল ঘোষের মতো প্রার্থীর হয়ে তাঁর প্রচার বাম-কংগ্রেস শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। এই আক্রমণের ফলে আসন্ন দিনগুলিতে বিজেপি বনাম তৃণমূল-আপ জোটের লড়াই যে আরও তীক্ষ্ণ হবে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
এক ঝলকে
- দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে মমতাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান কেজরিওয়ালের।
- বাম ও কংগ্রেসকে ভোট দিলে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা বিজেপি পাবে বলে হুঁশিয়ারি।
- দিল্লিতে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের উদাহরণ দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ।
- ইডির ভয় দেখিয়ে এবং বাঙালি সংস্কৃতিতে আঘাত করে বিজেপি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।
