ধসে পড়ল বহরমপুরের শেষ দুর্গ! সুব্রতর কাছে পরাজিত হয়ে রাজনীতির ময়দানে কোণঠাসা অধীর

তিন দশকের একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ধসে পড়ল অধীররঞ্জন চৌধুরীর ‘শেষ দুর্গ’। বহরমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট, মুর্শিদাবাদের মাটিতে কংগ্রেসের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার পায়ের তলা থেকে মাটি কার্যত সরে গিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার নিজের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও বিজেপির সুব্রত (কাঞ্চন) মৈত্রর কাছে পরাজিত হলেন অধীর চৌধুরী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এখানে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, এবার লড়াই ছিল মূলত বিজেপির সাথে। তবে সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন বিজেপি প্রার্থীই।
রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন ও হারের কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর এই পরাজয় আকস্মিক নয়। ২০১৬ সালের পর থেকেই মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি এবং বিজেপির উত্থান কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান কমে আসা এবং ২০২৪-এ তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয় ছিল পতনরেখার শুরু। এবারের নির্বাচনে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের কড়া আক্রমণ এবং তৃণমূলের সুসংগঠিত প্রচার অধীরকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে, বিজেপির সুব্রত মৈত্র কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা তাকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
এই পরাজয়ের ফলে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে অধীর চৌধুরীর ‘রবিনহুড’ ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল। দীর্ঘকাল ধরে জেলা রাজনীতিতে যে একমেরু কেন্দ্রিক ক্ষমতা ভোগ করতেন তিনি, তা এখন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদা নবগ্রামের বিধায়ক থেকে শুরু করে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব সামলানো নেতার এই হার রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসের অস্তিত্বকে আরও সঙ্কটের মুখে ফেলল। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, বহরমপুরের ‘মিথ’ এখন ভাগীরথীর জলে বিসর্জিত। এই ফলাফল আগামী দিনে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মীদের মনোবলকে খাদের কিনারে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
