নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজেকে চিনুন, বন্ধুদের সাহায্য কেন জরুরি?

নতুন সম্পর্কের আগে বন্ধুদের পরামর্শ কেন গুরুত্বপূর্ণ? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠে নতুন জীবন শুরু করা সহজ বিষয় নয়। অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা তাড়াহুড়ো করে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি, যার পরিণতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুখকর হয় না। প্রায়শই দেখা যায়, আপনার কাছের বন্ধু আপনাকে নতুন সম্পর্কে জড়াতে মানা করছেন, কিন্তু আপনি তা উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। দিনের শেষে সেই সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটলে আবার সেই বন্ধুর কাছেই ফিরে আসতে হয়। ব্যক্তিগত জীবনে এই পরিস্থিতি কি কেবল আপনার সঙ্গেই ঘটে? অবশ্যই না। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতা।
বন্ধুরা কি আপনার মনের অবস্থা অন্যদের চেয়ে ভালো বোঝেন?
জার্নাল অফ সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপস-এ প্রকাশিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি নতুন গবেষণা এই বিষয়ে এক নতুন আলোকপাত করেছে। ৮০০ তরুণ-তরুণীর ওপর চালানো এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিজের মানসিক অবস্থা বা সম্পর্কের জন্য প্রস্তুতির বিষয়টি আমরা নিজেরা যতটা ভালো বুঝি, তার চেয়ে অনেক সময় আমাদের বন্ধুরা তা বেশি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য কতটা মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়েছেন, তা নিরপেক্ষভাবে বিচার করার ক্ষমতা বন্ধুদের মধ্যে বেশি থাকে। ব্যক্তিগত আবেগ এবং আগের সম্পর্কের ট্রমা মানুষকে নিজের সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে তোলে, ফলে মানুষ অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন নিজের সিদ্ধান্তের চেয়ে বন্ধুদের পরামর্শে আস্থা রাখা জরুরি?
গবেষকদের মতে, মানুষ যখন আবেগের আচ্ছন্নতায় থাকে, তখন তাদের বিচারবুদ্ধি লোপ পায়। কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- আবেগীয় অন্ধত্ব: সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় কেবল নিজের ভালো লাগা বা একাকীত্ব দূর করার উপায় খুঁজি, ভবিষ্যৎ বা মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাই।
- নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি: বন্ধু ব্যক্তিগত আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পর্কের সমীকরণগুলো দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, যা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
- মানসিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন: অনেক সময় আমরা মনে করি আমরা পুরোপুরি ‘হিল’ বা সুস্থ হয়েছি, কিন্তু বন্ধুরা আমাদের আচরণ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বুঝতে পারেন আগের ক্ষতগুলো এখনও দগদগে কি না।
- সতর্কবার্তা: বন্ধুরা আপনার অতীতের অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকেন, তাই আপনি ভুল পথে এগোলে তারা সতর্কবার্তার মতো কাজ করেন।
পরিশেষে, নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজের মনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রিয় বন্ধুদের পরামর্শ শোনা বুদ্ধিমানের কাজ। তারা আপনার বর্তমান মানসিক অবস্থার যে নিরবচ্ছিন্ন মিরর বা আয়না হিসেবে কাজ করেন, তাকে উপেক্ষা করা মানেই ফের কোনো ভুল সম্পর্কের দিকে পা বাড়ানো।
এক ঝলকে
- মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় ৮০০ তরুণ-তরুণীর ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
- গবেষণাটি জার্নাল অফ সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
- নিজের প্রস্তুতির চেয়ে বন্ধুরা আপনার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বেশি নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে পারেন।
- ব্যক্তিগত আবেগ ও হীনম্মন্যতা অনেক সময় আমাদের সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নিতে বিভ্রান্ত করে।
- বন্ধুর পরামর্শ অবহেলা করলে পরবর্তীতে ভুল সম্পর্কের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
