নন্দনে এবার জয়ব্রতর ছবি, বাধা পেরিয়ে অবশেষে সরকারি হলে ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার রাজ্যের চলচ্চিত্র জগতেও বড়সড় বদলের হাওয়া লেগেছে। একসময় তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ফেডারেশনের আপত্তির মুখে পড়ে যে ছবিকে হল পাওয়ার জন্য লড়াই করতে হয়েছিল, সেই ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ এখন সগৌরবে প্রদর্শিত হচ্ছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রেক্ষাগৃহ নন্দনে। পরিচালক জয়ব্রত দাসের এই চলচ্চিত্রের এমন ভাগ্যবদলকে বাংলা সিনেমার জগতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বাধা পেরিয়ে কাল্ট ছবির পথে
অতীতে ছবিটির মুক্তি নিয়ে কম জটিলতা তৈরি হয়নি। গুটিকয়েক সিনেমা হলে মুক্তি পেলেও রাজনৈতিক অদৃশ্য চাবুকে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়া বদল হতেই নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে এই ছবি। বহু বাধা অতিক্রম করে তৃতীয়বারের মতো দর্শকের দরবারে ফিরে এসেছে এটি। রবিবাসরীয় ছুটির দিনে নন্দনে সিনেমাটির প্রদর্শনে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা সিনেমাটিকে একটি ‘কাল্ট’ ঘরানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন কলাকুশলীরা।
উচ্ছ্বসিত সৌরভ ও ঋষভ
সরকারি প্রেক্ষাগৃহে ছবির এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত অভিনেতা সৌরভ দাস জানান, শিল্পীদের মূল লক্ষ্যই থাকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো। সরকারি হলে মুক্তি পাওয়ায় এবার অনেক বড় পরিসরে সাধারণ মানুষের কাছে ছবিটির আবেদন পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, নন্দনে হাজির হয়ে অভিনেতা ঋষভ বসু বলেন, দর্শকদের ভালোবাসাই সমস্ত বাধা ও সমালোচনার যোগ্য জবাব দিয়েছে। ছবিটিকে পছন্দ না করলে এটি তৃতীয়বার মুক্তি পেত না এবং সরকারি হলে স্থান পাওয়া তাদের জন্য বিরাট এক প্রাপ্তি।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, চলচ্চিত্র শিল্পে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। সিনেমার এই জয়কে বাংলা সিনেমার সামগ্রিক জয় হিসেবে দেখছেন অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। অতীতে যারা ক্ষমতার জোরে এই ছবির মুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য একটি বড় বার্তা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে ভিন্ন মতাদর্শের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা সরকারি স্তরে আরও বেশি সুযোগ ও কাজের স্বাধীনতা পাবেন, যা বাংলা সিনেমার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
